উত্তরের শেষ দুর্গও হাতছাড়া রাহুলের! পাঞ্জাবের পর হিমাচলের স্থানীয় নির্বাচনেও ধরাশায়ী কংগ্রেস
প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
দিন দুই আগেই পাঞ্জাবের নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত খারাপ ফল হয়েছে কংগ্রেসের। বিজেপির চাপে কার্যত কোণঠাসা হয়ে যাওয়া আম আদমি পার্টি যেখানে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি আসন জিতেছে, সেখানে কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ আসন। এবার হিমাচলে কংগ্রেসের অবস্থা আরও শোচনীয়। সে রাজ্যে নিজেদের সরকার থাকা সত্ত্বেও চার পুরনিগমের মধ্যে ৩টিই হাতছাড়া হয়েছে হাত শিবিরের।
পাঞ্জাব ও হিমাচল দুই রাজ্যেই আগামী বছর নির্বাচন। পাঞ্জাবে বছরের শুরুতে, হিমাচলে বছরের শেষে। পাঞ্জাবে এবার ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী হাত শিবির। ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন আপ সরকারের বিরুদ্ধে বহু অভাব-অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেভাবে বিরোধী পরিসরে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি হাত শিবির। কংগ্রেস সেখানে দ্বিতীয় হলেও বিজেপি ক্রমশ উল্কার গতিতে উঠে আসছে। সব মিলিয়ে পাঞ্জাবে বেশ চাপে হাত শিবির। এর মধ্যে আরও বড় দুঃসংবাদ হিমাচল থেকে।
গোটা উত্তর ভারতে একমাত্র এই হিমাচলেই কংগ্রেসের প্রদীপ টিমটিম করে চলছে। দক্ষিণের বাইরে হিমাচল ছাড়া আর কোনও রাজ্যে হাত শিবির ক্ষমতায় নেই। সেই রাজ্যেও চার পুরনিগমের মধ্যে ৩টিই হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের। হিমাচলের মান্ডি, ধরমশালা এবং সোলান তিন পুরনিগমেই জয় পেয়েছে বিজেপি। সবকটিই বেশ ভালো ব্যবধানে। রাহুল গান্ধীর সান্ত্বনা শুধু পালামপুর। সেখানেই একমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছেন কংগ্রেস। এই চারটি পুরনিগমের মধ্যে একমাত্র মান্ডি বাদে সবগুলিই এতদিন ছিল কংগ্রেসের দখলে।
বিধানসভা ভোটের ঠিক আগের বছর হিমাচলের এই পুরনিগমে বিজেপির এই জয়, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত, এই পুরভোটগুলিকেই রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভার বার্তাবাহী বলে মনে করা হয়। ২০২২ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পুরভটে ভালো ফল করে কংগ্রেস। পরের বছরই রাজ্যে ক্ষমতায় আসে হাত শিবির। বিজেপির দাবি, পুরভোটের ফলেই স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া ঝড় সময়ের অপেক্ষা।