• পওয়ার, উদ্ধবের মতোই হাতছাড়া হচ্ছে দল! মমতা বললেন, ‘আমি বড় খেলোয়াড়’
    প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
  • তৃণমূল কংগ্রেসে মুষলপর্ব! রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে জোর ডামাডোল চলছে। সই জাল কাণ্ডে ফাঁস তৃণমূলের জালিয়াতি! এদিনই এরপরেই অস্বস্তি ঢাকতে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে এই দুই তৃণমূল বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত।

    তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ৫০ জন বিধায়ক বেরিয়ে যেতে পারেন! দল ভাঙতে পারে! সেই জল্পনাও তুঙ্গে উঠেছে। বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। তাহলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির মতোই হতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতির তৃণমূলের অবস্থা? শরদ পওয়ার, উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে চলে গিয়েছিল তাঁদের দলের রাশ। প্রতীকও হাতছাড়া হয়েছিল। তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেও হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস! 

    সই জাল কাণ্ডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল বহিষ্কার করেছে। এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮ হল। বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চা, তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ জন বিধায়ক দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন! ‘নতুন তৃণমূল’ ঋতব্রত-সন্দীপনদের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে! সেই গুঞ্জনও চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তেমন হলে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল হিসেবেও মর্যাদা পাবে না রাজ্যে!

    শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকও হাতছাড়া হতে পারে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে। অতীতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি এই ঘটনা ঘটেছে। এনসিপি ভাঙার কারণে শরদ পওয়ারের থেকে ক্ষমতা চলে গিয়েছিল। শিবসেনাতেও ভাঙন হয়েছিল। বিধায়করা বেরিয়ে যাওয়ায় উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে দলের রাশ চলে গিয়েছিল। প্রতীকও হাতছাড়া হয়েছিল। সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে তৃণমূলে! সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। 

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বহিষ্কারের পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন। তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে চিঠি লেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন ঋতব্রত। “আমি যা যা জানি… বলতে পারি। সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখে জানাব।” সেই কথা বলেন তিনি। এদিনই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভ করেন। নাম না করেই ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। বিজেপি দল ভাঙার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কাও করেছেন নেত্রী।

    এদিন মমতা বলেন, “আমি বড় খেলোয়ার।” নাম না করে ঋতব্রতকে আক্রমণ করে বলেন, “সিপিএম করত। আমাদের ভুল হয়েছে তাঁকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল। অত্যন্ত এই একটি ক্ষেত্রে আমি তাঁদের প্রশংসা করি। তা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে দু’বার সাংসদ করেছি। অন্য লোকের টিকিট কেটে তাঁকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেজন্য ক্ষমা করিনি।” 

    এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যারা রোজ গিয়ে বিজেপিতে মিট করছে। বিজেপির কথামতো সবাইকে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অপরাধটা কী? তিনি তাঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন। সবার কী কেবল বাবা-মা এমপি হবে, তাঁর ছেলেমেয়েরাই টিকিট পাবে? সেটা তো হতে পারে না। আমি একজন এমএলএ ছিলাম। অভিষেক একজন এমপি ছিল। এত বড় পরিবার। প্রায় ৫০ জন আমাদের পরিবারে লোক। আর এক-একটা পরিবারে তো চার ভাই তো চার ভাই-ই এমএলএ-এমপি হয়েছেন। সেগুলোর কৈফিয়ত কে দেবে? দল সব সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কথা আরও একবার জানালেন নেত্রী। এদিন মানুষের কাছে ‘বিশ্বাসঘাতক’দের টিকিট দেওয়ার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন মমতা। 

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)