এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠকে জাভেদ, শিউলিরা! বিদ্রোহী বাড়ছে তৃণমূলে?
প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। সেই নিয়ে দলের মধ্যেই অস্বস্তি বেড়েছে। এবার সেই অস্বস্তি আরও বাড়ালেন তৃণমূলের বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহারা! কলকাতার এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে শিউলি সাহাদের বৈঠক হয়েছে বলে খবর! এদিন রাতে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন শিউলি নিজেই। তিনি বলেছেন, “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়। দল থেকে বহিষ্কৃত।” এমএলএ হস্টেলে তিনি ঘর দেখতে এসেছিলেন, সেই কথা বলে বৈঠকের জল্পনা উসকে রাখলেন। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক আগামী কাল, মঙ্গলবারই স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে পারেন! ঋতব্রতকে দলনেতা করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে স্পিকারের কাছে ওই চিঠি যাবে বলে সূত্রের খবর।
রাজনীতির অন্দরের খবর, ঋতব্রত-সন্দীপন বহিষ্কারের পরেই শুরু হয়ে যায় জল মাপা। এদিন বাইপাসের ধারের একটি ঘরে প্রথম বৈঠক হয়, ফের সন্ধেয় নতুন করে এমএলএ হস্টেলের ঘরে বৈঠক হয়েছে! সেই বৈঠকে মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিধায়করা-সহ জাভেদ খান, শিউলি সাহা উপস্থিত ছিলেন! সব মিলিয়ে মোট ১৫-১৬ জন বিধায়ক ছিলেন বলে সূত্রের খবর! আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিধানসভার স্পিকারকে তাঁরা চিঠি দিতে পরান। সেই কথাও শোনা গিয়েছে। তাহলে কি তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা আরও বাড়ছে? এদিন এমএলএ হস্টেল থেকে বেরনোর সময় শিউলি বলেন, “হস্টেলে নিজের ঘর দেখতে এসেছিলাম। দেখলাম, ঋতব্রত-সন্দীপনরা বসে। একটু চা খেয়ে গেলাম।” “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়। দল থেকে বহিষ্কৃত।” এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন শিউলি।
সই জাল কাণ্ডে ফাঁস তৃণমূলের জালিয়াতি! সেই নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ-রাজনীতি। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ন ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। এদিন দুর্নীতি ইস্যুতে তিনি বলেন, “দুর্নীতিতে যা জানি, তদন্ত চাইব। উলুবেড়িয়া পুরসভায় ১০ হাজার ঘর চুরি হয়েছে। টেন্ডার ডাকা হয়নি।” প্রাণের ভয় আছে, সেজন্য সরকারে থাকাকালীন মুখ খুলতে তিনি পারেননি। সেই কথাও এই বিধায়ক বলেন। তিনি আরও বলেছেন, “এগুলো বলতে পারছি, তৃণমূল সরকারে নেই বলে। সরকারকে দুর্নীতির বিষয়ে লিখে জানাব।”
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ৫০ জন বিধায়ক বেরিয়ে যেতে পারেন! দল ভাঙতে পারে! সেই জল্পনাও তুঙ্গে উঠেছে। এরই মধ্যে এদিন রাতে এমএলএ হস্টেলে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলের থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। সুপ্রিমোর ডাকা বৈঠকেও তাঁরা হাজির হননি। গতকাল, রবিবার সেই বৈঠকও ভেস্তে গিয়েছিল। তাহলে তৃণমূলের ভাঙন কি এখন সময়ের অপেক্ষা? সেই চর্চাও চলছে।