আন্তোনিও রিকি ছিলেন বেকার যুবক। সাইকেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে চাকরি খুঁজতেন তিনি। কিন্তু একদিন সাধের সাইকেলটাই চুরি হয়ে যায়। তার পরে? রূপালি পর্দায় ‘বাইসাইকেল থিভস’-এর সেই আখ্যান সাজিয়েছিলেন ভিত্তোরিও দে সিকার। অনেকটা তেমনই ঘটল মেদিনীপুরে।
টাকা তুলতে ব্যাঙ্কে এসেছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া অরিত্র রানা। সোমবার দুপুরে সেখান থেকেই চুরি হয়ে যায় তাঁর সাইকেল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিশ মেলেনি। শেষে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে সোজা থানায় হাজির হন তিনি। কাঁচুমাচু মুখে পুলিশকে বলেন, ‘স্যর, দয়া করে আমার সাইকেলটা খুঁজে দিন।’
সাইকেলটাই ছিল অরিত্রর জীবনের সবচেয়ে সম্বল। ওটা নিয়েই স্কুল, টিউশন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি। আর সেটাই কি না চুরি! মেদিনীপুরের সদর ব্লকের পাঁচঘুরিতে বাড়ি অরিত্রর। সেখান থেকে সাইকেলে এলআইসি মোড়ের একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কে এসেছিলেন তিনি। সাইকেল রেখে শাখায় ঢোকেন। টাকাপয়সা তুলে বেরিয়ে দেখেন সাইকেল উধাও। একেবারে কর্পূরের মতো গায়েব।
অরিত্রর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। চারদিকে খুঁজতে শুরু করেন। যাকে বলে গোরু খোঁজা। এমন পরিস্থিতিতে পরেছিলেন ‘বাইসাইকেল থিভস’-এর আন্তোনিও রিকিও। ছেলেকে নিয়ে সাইকেল খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। অরিত্র দেখেন পাশের একটি ফলের দোকানে সিসিটিভি। হাতে চাঁদ পান তিনি। দোকানদারকে বলে-কয়ে ফুটেজ দেখেন। অরিত্রর কথায়, ‘সাইকেল রেখে ব্যাঙ্কে ঢুকেছিলাম। বেরিয়ে দেখি নেই। সিসিটিভি ফুটেজে দেখলাম, একটা ছেলে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেল।’
আর দেরি করেননি অরিত্র। সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে সোজা থানায় হাজির হন। কাঁচুমাচু মুখে বলেন, ‘স্যর, যে ভাবে হোক আমার সাইকেলটা খুঁজে দিন।’ মেদিনীপুর শহরে লাগাতার সাইকেল, বাইক, মোবাইল চুরির মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযানও চালাচ্ছে। আন্তোনিও রিকি নিজের সাইকেল খুঁজে পাননি। অরিত্র পাবেন?