• ‘সময়ের মধ্যে পরিষেবা দেওয়াই লক্ষ্য’, রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়ে কী পরিকল্পনা মুখ্যসচিবের?
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • ছাব্বিশের নির্বাচন পর্বে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্ব সামলেছেন। পালাবদলের পরে তিনিই হয়েছেন মুখ্যসচিব। নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ এবং জনমুখী করাই রাজ্য সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়ে দিলেন মনোজকুমার আগরওয়াল। সোমবার নবান্নে এই সময় অনলাইন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলে দিলেন, ‘সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব রকমের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার।’ একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানো নিয়েও সরকারের ভাবনাচিন্তা জানিয়েছেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিয়েছেন কড়া বার্তাও।

    তৃণমূল সরকারের জমানায় অবৈধ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং সরকারি খনিজ সম্পদের বেআইনি উত্তোলনের ফলে রাজস্বের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। এ দিন সাক্ষাৎকারের আগাগোড়া রাজস্ব বাড়ানোর উপরে জোর দেন মুখ্যসচিব। তিনি অবশ্য তৃণমূলের নাম নেননি। মনোজ বলেন, ‘রাজ্য অপচয় এবং আর্থিক ক্ষতি রোধ করে রাজস্ব বাড়ানোর উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ও কমাতে হবে।’ কোন কোন খাতে রাজস্ব বাড়ানো যায়, কোথাও ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এ দিন থেকে সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন মহিলারা। তাঁদের আর টিকিট কাটতে হচ্ছে না। এর জন্য রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে স্মার্ট কার্ড চালুর কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যসচিব বলেন, ‘এখন জিরো টিকিটে মহিলারা যাতায়াত করছেন। পরে আমরা তাঁদের স্মার্ট কার্ড দেব।’ এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলেও জানিয়ে মনোজ বলেন, ‘বাকি প্রকল্পও ধীরে ধীরে চালু হয়ে যাবে।’

    রাজ্যের সমস্ত অবৈধ টোল গেট এবং টোল প্লাজা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই নিয়ে কড়া ভাষায় মনোজ বললেন, ‘এটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে টোল আদায় করা যায় না।’ ভবিষ্যতে এমন হলে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যসচিব। ৩০ মে থেকে স্বচ্ছ অ্যাপ চালু হয়েছে। আবর্জনার ছবি তুলে পাঠালেই পরিষ্কার করে দেবে পুরসভা। তবে তিন মাস পর থেকে যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে জরিমানাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তবে কত জরিমানা নেওয়া হবে বা পরবর্তী কী পদক্ষেপের কথা রাজ্য সরকার ভাবছে সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরই বিষয়টা দেখবে।’

    গত কয়েক দিন ধরেই হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম-সহ একাধিক স্টেশনের বাইরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে সরগরম রাজ্য। হকারদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছে সিপিএম। এই নিয়েও অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যসচিব। তিনি শুধু বললেন, ‘রেল অভিযান চালাচ্ছে। বিষয়টা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’ তবে জনগণের কাজ সময়ের মধ্যে করা এবং যে কোনও ধরণের দুর্নীতি রুখে দেওয়াই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)