• আরও পিছোল বর্ষার আগমন, নতুন পূর্বাভাস ৩ জুন, কেন দেরি মৌসুমি বায়ুর প্রবেশে?
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • এই সময়: দুর্বল পশ্চিমা বাতাসেই পর পর তিনবার ডেট ফেল বর্ষার।

    দেশে বর্ষার আগমনবার্তা নিয়ে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঠিক কবে ঢুকতে চলেছে, সে বিষয়ে মৌসম ভবন পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে ২০০৫ থেকে। কেরালা দিয়ে বর্ষার বাতাসের ভারতের মাটিতে ঢোকার নির্ধারিত দিন হিসেবে ১ জুনকেই নির্দিষ্ট করেন আবহবিদরা। তবে বিষয়টা পুরোপুরি প্রাকৃতিক হওয়ায় বর্ষার বাতাস একেবারে দিন–ক্ষণ মিলিয়ে প্রবেশ করে না। তাই প্রতি বছরই মৌসম ভবন বর্ষার প্রবেশের যে পূর্বাভাস দেয়, তার চার দিন পর্যন্ত দেরি হলে তাকে ‘সঠিক পূর্বাভাস’ বলেই মনে করা হয়।

    ২০০৫ থেকে ২০২৫ পর্য‍ন্ত একবার মাত্র মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মেলেনি। ২০১৫–য় পূর্বাভাস ছিল ৩০ মে–র। কিন্তু সে বার বর্ষা এসেছিল ছ’দিন পরে — ৫ জুন। ২০২৬–এ এসে পূর্বাভাস ঘোষণার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বার ব্যর্থ হলেন ভারতীয় আবহবিদরা। এ বছরে মৌসম ভবন তার প্রথম পূর্বাভাসে জানিয়েছিল বর্ষা ঢুকতে চলেছে ২৬ মে। সেই পূর্বাভাস মেলেনি। এর পরে তাঁরা জানান, বর্ষা প্রবেশের সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে। সেই পূর্বাভাসও মেলেনি। এর পরের সম্ভাব্য তারিখ ১ জুন দেওয়া হয়। কিন্তু, সোমবার রাত পর্যন্ত দেখা মেলেনি দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর।

    আবহবিদদের অনুমান, ৩ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করবে না। তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো গোটা দেশ যে বর্ষার অপেক্ষায় মুখিয়ে রয়েছে, তা ফের অপ্রত্যাশিত বাধার মুখে পড়েছে। এর ফলে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের মালভূমির বেশ কয়েক কোটি বাসিন্দার জন্য ভয়াবহ তাপপ্রবাহ থেকে স্বস্তির অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে। গরম থেকে স্বস্তি দিতে যে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ, মৌসম ভবনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল অর্থাৎ ৩ জুনের আগে সেই বাতাসের কেরালায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

    আবহবিদদের একাংশের আশঙ্কা, এই তারিখেও বর্ষার প্রবেশ নাও হতে পারে। ইতিমধ্যেই তিনবার পূর্বাভাস মেলাতে ব্যর্থ হয়েছেন আবহবিদরা। গোটা দেশের কাছে তাই আপাতত একটাই প্রশ্ন — কেন দেরি হচ্ছে বর্ষার আগমনে? প্রতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রথমে কেরল উপকূলে উপস্থিত হয়। তারপর ধীরে ধীরে ওই বাতাস উত্তরমুখী হয়ে জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে গোটা দেশকে ছেয়ে ফেলে। মৌসম ভবনের মতে, দেশে বর্ষার আগমন ঘোষণা করার জন্য একসঙ্গে তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। এর মধ্যে রয়েছে, কেরালার নির্ধারিত ১৪টি ওয়েদার স্টেশনের ৬০ শতাংশতে টানা তিন দিন অন্তত ২.৫ মিমি বৃষ্টি। আরব সাগরের উপরে নির্দিষ্ট গতিবেগের পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ এবং উপগ্রহ চিত্রে পর্যাপ্ত মেঘাচ্ছন্নতা।

    মৌসম ভবন জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে বর্ষা প্রবেশের পথে মূল সমস্যা হলো বায়ুপ্রবাহ। কেরালা উপকূলের উপরে পশ্চিমা বায়ু এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। যদিও আর্দ্রতা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কেরালা ও লক্ষদ্বীপের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি ঘূর্ণাবর্ত এই পরিস্থিতিকে শুরুতেই জটিল করে তুলেছিল। সাধারণত ঘূর্ণিঝড় এবং ঘূর্ণাবর্তর মতো আবহাওয়া–ব্যবস্থা মৌসুমি বায়ুর জন্য প্রয়োজনীয় সুসংগঠিত বায়ুপ্রবাহকে ব্যাহত ও দুর্বল করে দেয়, ফলে বর্ষার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

    মৌসম ভবনের আশা, ১ জুনের পর থেকে পশ্চিমা বায়ু ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে। তবে আবহাওয়া এখনও এতটাই অস্থির যে বর্ষা প্রবেশের সঠিক তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, বর্ষা যদি ‘স্বাভাবিক সময়ের’ অর্থাৎ ১ জুনের এক সপ্তাহ পরে অর্থাৎ ৮ জুনের মধ্যেও কেরালায় না পৌঁছয়, তবে তাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘বিলম্বিত বর্ষা’ বলা হবে। তাই এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও সেই সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। গত কয়েক বছরের রেকর্ড দেখলে দেখা যাবে ২০১৯ ও ২০২৩–এ দেশে বর্ষা ঢুকেছিল ৮ জুন।

    তবে, এ বছর এমন একটা সময়ে এই ঘটনা ঘটছে যখন দেশের বিস্তীর্ণ অংশে চরম তাপপ্রবাহ চলছে। এ ছাড়া একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে ‘সুপার এল নিনিও’–র মতো প্রাকৃতিক অবস্থারও।

  • Link to this news (এই সময়)