• ব্যবসায় বিস্তর ঋণ, ধার মেটাতে জঙ্গি সেজে তোলা চেয়ে চিকিৎসকদের হুমকি! তারপর…
    প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
  • জঙ্গি পরিচয় দিয়ে শহরের একাধিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা চেয়ে হুমকি চিঠি! পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানায় একাধিক চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শেষপর্যন্ত জিপিও-র সিসিটিভির ফুটেজ ও মোবাইলের সূত্র ধরে অসমের লামডিং থেকে শিবতোষ দেবরায় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃত যুবকের দাবি, হোটেল ব‌্যবসায় তাঁর প্রচুর টাকা ঋণ হয়েছিল। সেই ঋণ মেটাতেই সে জঙ্গি সেজে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তোলাবাজির ছক কষে।

    পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৬ জন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ওই হুমকির চিঠি হাতে পান। লালবাজারের গোয়েন্দারা এর তদন্ত করে জানতে পারেন যে, মধ‌্য কলকাতার জিপিও থেকে এসেছে ওই চিঠি। সেইমতো জিপিও-র সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ব‌্যক্তিকে শনাক্ত করা হলেও তাঁর মুখে মাস্ক ছিল। ওই চিঠির উপর কয়েকটি মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকলেও সেগুলি ছিল বন্ধ। শেষে জিপিও অঞ্চলের কল ডাম্প করে মোবাইলের সূত্র ধরেই ওই ব‌্যক্তিকে পুলিশ শনাক্ত করে। জানা যায়, কলকাতা থেকে অসমে পালিয়েছে ওই ব‌্যক্তি। লামডিংয়ে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা শিবতোষকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁকে অসম থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। 

    জেরার মুখে সে পুলিশকে জানিয়েছে, অসমে সে হোটেলের ব‌্যবসায় নামে। কিন্তু তাঁর প্রচুর টাকা ঋণ হয়। সে কলকাতায় এসে নতুন করে হোটেলের ব‌্যবসা খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও সফল না হলে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করার ছক কষে। যদিও সে কিডনি বিক্রি করেছে কিনা, পুলিশ জানতে পারেনি। তবে কলকাতায় হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করতে গিয়েই তাঁর মাথায় চিকিৎসকদের কাছ থেকে তোলাবাজির ছক মাথায় আসে। তাঁদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের জন‌্য বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে সে শনাক্ত করে। তাঁদের বিভাগ জেনে নিয়ে হাসপাতালের ঠিকানায় চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যেই চিঠি লিখতে শুরু করে সে।

    নিজেকে জঙ্গি সংগঠনের ‘স্পেশাল ইউনিট’-এর সদস‌্য বলে পরিচয় দিয়ে চিঠি লেখে। টাইপ করা চিঠিতে সে দাবি করে যে, তাঁরা গেরিয়া যুদ্ধে অভ‌্যস্ত। অত‌্যাধুনিক অস্ত্র ও বুলেট ব‌্যবহার করে। নিজেকে ‘কিলিং মেশিন’ বলে পরিচয় দেয়। চিঠিতেই সে নগদ দশ লাখ টাকা দাবি করে। এমনকী, সায়ানাইড ব‌্যবহার করে বা পথ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ওই চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের লোকেদের খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। একেকজন চিকিৎসককে কালো রঙের ব‌্যাগে করে ১০ লাখ টাকা সায়েন্স সিটির কাছে একটি জায়গায় রেখে দিতে বলা হয়। যদিও চিকিৎসকরা উল্টে পুলিশকে জানান। তখন পুলিশ ফাঁদ পাতলেও সে ধরা পড়েনি। তাঁকে কলকাতায় নিয়ে এসে জেরা করে আরও তথ‌্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)