• দলগঠন নিয়ে অনিশ্চতায় ক্লাবগুলি, ডুরান্ডে বিদেশি প্লেয়ার কমানোর দাবি মোহনবাগানের
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • দেশের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ১৫ জুলাই থেকে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতীয় ফুটবলে। একদিকে নতুন মরসুমের রোডম্যাপ এখনও ঘোষণা করতে পারেনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF), অন্যদিকে ডুরান্ড কাপে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর দাবি তুলেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

    সোমবার এক বিবৃতিতে মোহনবাগান জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণের সম্মতি জানিয়ে আয়োজকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলারদের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে প্রতিযোগিতায় বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর আবেদনও করা হয়েছে।

    সবুজ-মেরুন শিবিরের দাবি, ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই তারা এই অবস্থান নিয়েছে। গত মরশুমেও ডুরান্ড কাপে শুধুমাত্র ভারতীয় ফুটবলারদের খেলানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মোহনবাগান। সেই দর্শন বজায় রেখেই এবারও দেশীয় ফুটবলারদের সুযোগ বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেছে ক্লাবটি।

    AIFF-এর আইন অনুযায়ী, বর্তমানে আইএসএল ও আই-লিগের (ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ) ক্লাবগুলি ছয়জন বিদেশি ফুটবলারকে সই করাতে পারে। প্রথম একাদশে সর্বোচ্চ ৪ জনের বেশি নামানো যায় না। তবে ডুরান্ড কাপ ও সুপার কাপে ছয়জন বিদেশিকেই দলে রাখার অনুমতি রয়েছে। এটা নিয়েই আপত্তি তুলেছে মোহনবাগান। তবে এই প্রথম নয়, অতীতেও তারা একই দাবি জানিয়েছিল। ডুরান্ড কাপ ও সুপার কাপে বিদেশি সংখ্যা কমানোর দাবি জানিয়েছিল তারা।

    ডুরান্ড কাপের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ

    একদিকে মোহনবাগান যেখানে বিদেশি সংখ্যা কমানোর দাবি করছে সেই সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ এখনও পর্যন্ত ২০২৬-২৭ মরসুমের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও কাঠামো প্রকাশ করতে পারেনি AIFF। ফলে অধিকাংশ আইএসএল ও আই লিগ ক্লাবই দল গঠনের কাজ শুরু করতে পারেনি। অনেক ক্লাবের কোচ এবং বিদেশি ফুটবলারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন কোচ ও ফুটবলার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও পাচ্ছে না ক্লাবগুলি। যার উদাহরণ ইস্টবেঙ্গল। সদ্য ISL জিতলেও তারা এখনও কোচ বা বিদেশি প্লেয়ারদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি।

    ফুটবল মহলের মতে, ১৫ জুলাই ডুরান্ড কাপ শুরু হলে অন্তত তিন সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি শিবির শুরু করা প্রয়োজন। কিন্তু ভবিষ্যতের পরিকল্পনা না জানায় ক্লাবগুলো দল তৈরি করতে পারছে না।

    পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে কয়েকটি ক্লাবের আর্থিক সমস্যা। ওডিশা এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স, এফসি গোয়া এবং ইন্টার কাশীর মতো কয়েকটি ক্লাব বর্তমানে আর্থিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত।

    এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (FPAI)। সংস্থার দাবি, আগামী মরসুম নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বহু পেশাদার ফুটবলার, এমনকি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়রাও কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে।

    FPAI-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের মতভেদ দূর করে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

    ফেডারেশন সূত্রে খবর, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে নতুন মরসুমের রোডম্যাপ ঘোষণা করার চেষ্টা চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ডুরান্ড কাপের আগে ক্লাবগুলির পূর্ণ শক্তির দল গঠন এবং যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা ততই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
  • Link to this news (এই সময়)