এই সময়, বর্ধমান: রায়নার কামারহাটিতে তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হলো তাজা কার্তুজ, অন্য দিকে মেমারিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বন্ধ অফিস থেকে মিলল বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও ফাঁকা প্যাডে সই করা সরকারি নথি। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পূর্ব বর্ধমানের জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সোমবার বিকেলে রায়না-২ ব্লকের গোতান পঞ্চায়েতের কামারহাটি গ্রামের তৃণমূল কার্যালয়ের তালা ভেঙে অভিযান চালায় মাধবডিহি থানার পুলিশ ও এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শুভাশিস রায়। ভিতরের একটি আলমারি ভেঙে ছয় রাউন্ড কার্তুজ ও অন্যান্য কিছু জিনিস উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তাপস বাগের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি চলে। তাপস জানান, কার্তুজ থাকার কথা তিনি ভোটের আগেই জানতেন, কিন্তু ভয়ে মুখ খোলেননি। ঘটনাটি ঘটেছে প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, '৪ তারিখ যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত, তা হলে এলাকায় কী ভাবে যে খুন, সন্ত্রাস হতো এটা তারই একটা সামান্য দিক। এমন বহু অফিস খুললেই বেরিয়ে আসবে আরও কিছু। গ্রামের বাড়িতে এলে এই অফিসেই তো বসতেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। এখন তিনি কি বলছেন তার খোঁজ নিন। রায়না-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতিকে কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?'
অন্য দিকে, মেমারির বামুনপাড়া মোড়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের বন্ধ কার্যালয়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেখানে হাজির হন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। ওই অফিস থেকে তৎকালীন বিধায়কের সই করা রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদকে আবেদনের ফাঁকা লেটারহেড, একাধিক চাকরির বায়োডেটা এবং সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ বিপুল ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। বায়োডেটা দেখে পুলিশের অনুমান, চাকরি দেওয়ার নামে কোনও জালিয়াতি হয়ে থাকতে পারে। বিজেপির বিধায়ক মানব গুহ বলেন, 'সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল ত্রাণের সামগ্রী আটকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে ত্রাণের জিনিস কী ভাবে আটকে রাখেন বিধায়ক? মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ, রাজ্যপালকে লেখা ফাঁকা চিঠি কী ভাবে থাকল? পুলিশ দেখুক।'
অভিযোগের জবাবে প্রাক্তন বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, 'আমি ফাঁকা প্যাডে সই করে রেখেছি সেটা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা হবে বলে। কারও জরুরি কাজে সেই সময়ে আমি না-থাকলে ওটা কাজে লাগে। ত্রাণের জিনিসের বিষয়টি আমি বেলা দেড়টা নাগাদ মেল করে মেমারি-১ ব্লকের বিডিও, বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমাশাসক-সহ থানাতে জানাই। বিডিও আমাকে মৌখিক ভাবে বলেছিলেন ওগুলো দিয়ে দেওয়ার জন্য।' বায়োডেটার প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেকেই চাকরির জন্য বায়োডেটা দিয়ে যান। তাঁর সাধ্যমতো কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে লোক নেওয়ার অনুমোদনও করেছিলেন, যার মধ্যে কয়েকজনের চাকরি হয়েছে। দুই ঘটনারই উৎস ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।