তাপস প্রামাণিক ও তথাগত সেনগুপ্ত
যে বাড়িতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়ে গিয়েছেন জ্যোতি বসু, সল্টলেকে সেই বাড়িতেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আবাস তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশ। ডি ই ব্লকের সেই বাড়ি ‘ইন্দিরা ভবন’ বলে খ্যাত।
একটি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই সেই বাড়ির মেরামতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। নবান্নের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্দিরা ভবনকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বাসযোগ্য করে তুলতে কোমর বেঁধে লেগেছেন রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা। পুর্ত দপ্তরের দাবি, জুলাই থেকেই সেখানে থাকতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে কলকাতায় শুভেন্দুর কোনও সরকারি বাসভবন নেই। তিনি সপ্তাহের কোনও না কোনও সময়ে পৌঁছে যান পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের কাঁথির বাড়িতে। তবে কলকাতায় যখন থাকেন, তখন চিনার পার্কের একটি বাসস্থানে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা থাকার সময় থেকেই শুভেন্দু বেশিরভাগ সময় কাটাতেন চিনার পার্কের ওই বাসস্থানে। এ ছাড়াও কলকাতায় তাঁর একাধিক থাকার জায়গা রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
১৯৭২–এ দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্য সল্টলেকের নিরিবিলি পরিবেশে এই ভবনটি তৈরি হয়েছিল। তখন সল্টলেক ছিল জঙ্গলে ভরা। সরকারি সূত্রের দাবি, কলকাতায় কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কনফারেন্স চলাকালীন ইন্দিরার থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল এই বাড়িটি। খাতায়–কলমে তার স্টেটাস ছিল ‘সরকারি গেস্ট হাইজ়’। ইন্দিরার মৃত্যুর পরে এই ভবনের নাম হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নামে।
বাম জমানায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসুর বাসস্থান হয়ে ওঠে এই ইন্দিরা ভবন। আঁটসাট নিরাপত্তায় মোড়া থাকত ওই চত্বর। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও জ্যোতি বসুই থাকতেন ইন্দিরা ভবনে। শেষ জীবন তিনি সেখানেই কাটান। বুদ্ধদেব থাকতেন তাঁর পুরোনো পাম অ্যাভিনিউয়েরর ফ্ল্যাটেই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনিও সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। জ্যোতি বসুর মৃত্যুর পরে বিচারপতি অমিতাভ লালার কমিশন–সহ মোট চারটি কমিশনের কার্যালয় তৈরি হয় ইন্দিরা ভবনে।
সরকারি সূত্রের খবর, মমতা বন্দোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর বাসস্থান হিসেবে ইন্দিরা ভবনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে তিনিও সেখানে থাকতে রাজি হননি। তিনি রয়ে যান কালীঘাটের বাড়িতে। তৃণমূল জমানাতেই ইন্দিরা ভবন থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জ্যোতি বসুর পুর্ণাবয়ব মূর্তি–সহ তাঁর সমস্ত সামগ্রী ইন্দিরা ভবন থেকে বার করে নিউটাউনে তাঁর নামাঙ্কিত রিসার্চ সেন্টারে প্রদর্শনীর জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শুভেন্দু আদতে কলকাতার বাসিন্দা নন। তাই, শহরে তাঁর পাকাপাকি কোনও বাসস্থান ছিল না। চিনার পার্কে যেখানে তিনি থাকছেন, তার চেয়েও নিরাপত্তা–সহ একাধিক বিষয়ের নিরিখে ইন্দিরা ভবন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্তারা। ইন্দিরা ভবনের মেরামতির কাজ শুরুর পাশাপাশি সেখানকার নিরাপত্তাও মজবুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। ওই বাড়ির পিছন থেকে থাকা এক কাবাড়িওয়ালার (যাঁরা ভাঙাচোরা জিনিসপত্র কেনাবেচা করেন) আস্তানা পুলিশ ইতিমধ্যেই সরিয়ে দিয়েছে। এই বাড়ির আশপাশে কোনও রেসিডেনশিয়াল এরিয়া নেই। ওই বাড়ির সামনে চওড়া রাস্তা। সেখান থেকে বাইপাস যাওয়া খুবই সুবিধেজনক। কলকাতা বিমানবন্দরও অনেক কাছে।