সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন জনকে। তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতরা একই পরিবারের সদস্য। সোমবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে।
পুলিশ এবং আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন স্বরূপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী শ্রাবণী দত্ত এবং তাঁদের ছেলে সৌরভ দত্ত। ধৃতরা বর্ধমান শহরের বাসিন্দা। সরকারি গ্রুপ-সি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর বালিডাঙা নজরুলপল্লি এলাকার বাসিন্দা পিন্টু দাস বর্ধমান থানায় এই প্রতারণার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি সহ মোট ১১ জনের কাছ থেকে সরকারি গ্রুপ সি পদে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে গত বছর ৩০ জুলাই মোট ৫৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন শ্রাবণী দত্ত। বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা তিনি এই মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়ার পর তাঁদের হাতে সরকারি নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং প্রশিক্ষণের চিঠিও তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা জানতে পারেন যে, তাঁদের দেওয়া ওই সমস্ত নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং প্রশিক্ষণের চিঠিগুলি সম্পূর্ণ জাল। এই নিয়ে লিখিত অভিযোগও করেন পিন্টু। কিন্তু সেই সময়ে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও দাবি পিন্টুর।
রাজ্যে পরিবর্তনের পরে আবার পুলিশে অভিযোগ জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ প্রথমে শ্রাবণী দত্তদের বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু তখন তাঁদের পাওয়া যায়নি। পরে আবার অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকেই ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বর্ধমান সিজেএম আদালত।
ঘটনার নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং এর মূল উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, ধৃত সকলেই বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ঠ।
উল্লেখ্য, খোকন দাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, বেআইনি জলাজমি ভরাট, জমি দখল-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের পরে এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। আজ, মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে পুলিশ সূত্রে খবর।