বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সই জালিয়াতির অভিযোগ। যা ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। এ নিয়ে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য এবং মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তাপস রায়। প্রবীণ এই বিধায়কের কথায়, ‘জোচ্চুরি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজেদের দলের বিধায়কের সইও জাল করতে হয়।’
‘এই সময় অনলাইন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপস রায় জানান, বিষয়টি একেবারেই তৃণমূলের দলীয় ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য, 'গত ১৫ বছরে এই রকম আরও কত সই জাল হয়েছে এবং সেই জাল সইয়ে কী কী কাজ হয়েছে, কে জানে?'
তাপস রায়ের কথায়, ‘গত ১৫ বছরে আমলাদের, মন্ত্রীদের কত সই যে জাল হয়েছে এবং তাতে বড় বড় টেন্ডার বেরিয়ে গিয়েছে, তা ভেবেই আশঙ্কা হচ্ছে।’ তবে তাঁদের বিজেপি সরকার সেই সব কিছু সামলে নিষ্ঠার সঙ্গে যে কাজ করবে, সেই দাবিও করেন তিনি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা চেয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষকে একটি চিঠি লেখা হয়। ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব বৈঠকের রেজ়োলিউশনের কপি পাঠাতে বলেন। সেই কপিতে ১০ জনের নাম ক্যাপিটাল লেটারে লেখা। এ নিয়ে তৃণমূলের দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন। ওই রেজ়োলিউশন কপিতে থাকা একাধিক বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এর পরেই বিধানসভার প্রধান সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যার তদন্তভার এখন সিআইডির হাতে। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে গোটা বিষয়টি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্দীপন, ঋতব্রত নাম সামনে আসার পরেই তৃণমূল তাঁদের বহিষ্কার করে।