নয়াদিল্লি: বিল পাশে রেকর্ড। গত বছর ৬০০টির বেশি বিল পাশ হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায়। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। তবে পাশ হওয়া বিলের মধ্যে মাত্র পাঁচ শতাংশই বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য বিভিন্ন কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেখা গিয়েছে, ২৭টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার গড় অধিবেশন বসেছে মাত্র ২৪ দিন। আবার গত ২১ বছর ডেপুটি স্পিকার ছাড়াই চলছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা। অথচ সংবিধানের ১৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভায় ডেপুটি স্পিকার থাকা বাধ্যতামূলক। পিআরএস অ্যানুয়াল রিভিউ অব স্টেট ল’ ২০২৫ সালের রিপোর্টে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৫ সালে বিধানসভার অধিবেশন হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষে ছিল ওড়িশা। মোট ৪৩ দিন। অপরদিকে সবার পিছনে নাগাল্যান্ড। উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে মাত্র সাতদিন অধিবেশন বসেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, ৩০ শতাংশ বিল আবার বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় পেশের দিনই পাশ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, গুজরাত, ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম, পুদুচেরি ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে বিলগুলি পেশের দিনেই অথবা পরদিন পাশ হয়েছে। বাজেট বিতর্ক নিয়েও রাজ্যগুলির বিধানসভায় অনীহা ধরা পড়েছে। গড়ে মাত্র ৮দিন আলোচনা চলেছে বাজেট নিয়ে। তবে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তামিলনাড়ু। মোট ২৭ দিন আলোচনা চলেছিল এই রাজ্যে। আবার পাঞ্জাবে মাত্র দু’দিন বিতর্ক চলেছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাশ হওয়া বিলগুলির মধ্যে ৬৬ শতাংশই একমাসের মধ্যে রাজ্যপালের অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালে রাজ্য সরকারগুলি মোট ১২৭টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় যা ২৪ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালে ১৩টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি নিয়ে আইন পাশ করেছে বিভিন্ন রাজ্য। তবে পর্যাপ্ত আলোচনা না করে বিল পাশ হওয়া নিয়েি ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।