পহেলগাঁও হামলা, জঙ্গির ফোনের সঙ্গে করাচির ব্যাংকের যোগ!
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার তদন্তে নতুন তথ্য হাতে পেলেন এনআইএ’র গোয়েন্দারা। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলায় যে দু’টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল, তার মধ্যে একটি কেনার জন্য ঋণ দিয়েছিল পাকিস্তানের করাচির এক ব্যাংক। ২০২১ সালে ফোনটি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু হামলার আগে পর্যন্ত সেটি একবারও ব্যবহার করা হয়নি। চার বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধই পড়েছিল ফোনটি। ফয়জল ব্যাংক নামে ওই সংস্থার সঙ্গে এর আগেও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ মিলেছিল। সেই কারণে পহেলগাঁও হামলাতেও তাদের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। নতুন এই তথ্য মেলার ফলে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাকিস্তানি যোগ আরও স্পষ্ট হল বলে মনে করছেন তাঁরা।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলায় প্রাণ যায় ২৬ জনের। ঘটনার পরেই পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছিল ভারত। যদিও ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হঠাত্ পরিকল্পনা করে পহেলগাঁওয়ে হামলা চালানো হয়নি। এর জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার কিছুদিন পর দাচিগাঁওয়ে ‘অপারেশন মহাদেব’ চলাকালীন হামলায় জড়িত তিন জঙ্গিকে খতম করে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের থেকে দু’টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। চীনা সংস্থার তৈরি মোবাইলগুলি ২০২১ সালে এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তানে আমদানি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১ সালে আমদানি করা ফোনটি করাচির টেক সিরাত প্রাইভেট লিমিটেড বৈধ পথেই পাকিস্তানে আনে। এই আমদানির গ্যারান্টার ছিল ফয়জল ব্যাংক। জানুয়ারি মাসে ফোনটি ডেলিভারি করা হয় ফয়জল ব্যাংকের করাচির সদর দপ্তরে। এরপর সেটির আর কোনো রেকর্ড মেলেনি। ২০২৫ সালে হঠাত্ করেই সক্রিয় হয় ফোনটি। তার পরই সেটি জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। ২০২৩ সালেও এয়ার লিংক নামে একটি সংস্থা একই কোম্পানির মোবাইল ফোন পাকিস্তানে আমদানি করে। এয়ার লিংক পাকিস্তানের প্রথম সারির মোবাইল সরবরাহকারী সংস্থা। সেটিও দু’বছর ধরে ব্যবহার করা হয়নি। হামলার ঠিক আগে সেটি চালু হয়।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, এটা কোনোভাবেই কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। ওই ফোনগুলি বিশেষ কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক আগে থেকেই সুরক্ষিত জায়গায় আলাদা করে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলি জঙ্গি সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা ফোনগুলি থেকে কোনো কল রেকর্ড, মেসেজ বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট খুঁজে পাননি। ফোনগুলিতে ইন্টারনেটও ব্যবহার করা হয়নি। এনআইএ সূত্রে খবর, জঙ্গিরা লং-রেঞ্জ রেডিয়ো কমিউনিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। এই প্রযুক্তিতে ফোন ব্যবহারের জন্য নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট প্রয়োজন হয় না।