নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার থেকে শুরু হয়েছে আসন্ন রাজ্যসভার ভোটের মনোনয়ন পেশ। কিন্তু এখনো কংগ্রেস ঠিক করে উঠতে পারেনি, কাকে কোন রাজ্য থেকে টিকিট দেওয়া হবে। চলছে টানাপোড়েন। ১৩ রাজ্যের ২৭ আসনে হবে নির্বাচন। এর মধ্যে গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো ১০ রাজ্যে ২৪ আসনে হবে পূর্ণ মেয়াদের (ছ’ বছর)। বাকি মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং ওড়িশায় উপ নির্বাচন। আগামী সোমবার ৮ জুন পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ। ভোটদান ১৮ জুন।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্ণাটক থেকে মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে ফের রাজ্যসভায় পাঠানো হবে। বাকি আরো দুটি আসন পাবে কংগ্রেস। তার মধ্যে একটি অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির বোন ওয়াই এস শর্মিলাকে দেওয়া হোক বলেই দলের একাংশ চাইছে। শর্মিলা বর্তমানে অন্ধ্রের প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী। কর্ণাটক থেকে কংগ্রেসের তৃতীয় আসনটি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ চাইছেন। কিন্তু রাজ্যের বাইরে থেকে দুটি আসন ছাড়তে নারাজ কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস। সিদ্ধারামাইয়ার ইস্তফার পর আগামীকাল বুধবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন ডি কে শিবকুমার। তারপরই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে, এআইসিসি মুখপাত্র তথা দলের মিডিয়া এবং পাবলিসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরার ভাগ্যে এবার রাজ্যসভার শিকে ছিঁড়তে পারে। যদিও তিনি চাইছেন তাঁর নিজের রাজ্য রাজস্থান থেকে সংসদদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে। রাজস্থানে একটি আসন পাবে কংগ্রেস। তবে সেখানে দলের বর্তমান সাংসদ নীরজ দাঙ্গিকেই ফের টিকিট দেওয়ার কথাই শোনা যাচ্ছে। সেজন্য খেরাকে ঝাড়খণ্ড থেকে জিতিয়ে আনতে সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো হেমন্ত সোরেনকে রাজি করাতে চাইছে কংগ্রেস। ঝাড়খণ্ডে দুটি আসনে ভোট। প্রয়োজন ২৮ টি করে ভোট। এনডিএ’র আছে ২৪। বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের ৫৬। ওদিকে, তামিলনাড়ুতে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। সেখানে একটি আসনে উপনির্বাচন। যিনিই জিতবেন তাঁর মেয়াদ হবে ২০২৮ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত। দক্ষিণের এই রাজ্যের টিভিকে সরকারের শরিক কংগ্রেস। এখানে প্রয়োজন ১১৮ বিধায়ককের ভোট। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল টিভিকের রয়েছে ১০৭। বাকি কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক মিলিয়ে শাসকপক্ষে ১২১। কংগ্রেস সূত্রে খবর, এআইসিসির অল ইন্ডিয়া প্রফেশনাল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান প্রবীণ চক্রবর্তী চাইছেন তামিলনাড়ুর আসনটি। কিন্তু বিজয় কি প্রথমবার রাজ্যসভায় তাঁর নিজের দলের কাউকে পাঠানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন?