• উত্তরবঙ্গ থেকে আরও ৯ জন মন্ত্রী
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বিজেপির ‘ভদ্রাসন’ উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম দফায় মন্ত্রী হয়েছিলেন একজন। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম সম্প্রসারণে  ঠাঁই পেলেন আরও ন’জন বিধায়ক। এরফলে উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০। যারমধ্যে চারজন পূর্ণমন্ত্রী। বাকি ছ’জন প্রতিমন্ত্রী। এঁদের একজন আবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত। সোমবার তাঁরা লোকভবনে শপথগ্রহণ করেন। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত উত্তরবঙ্গের পদ্ম শিবির। তাদের দাবি, মন্ত্রিসভা গঠনে উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দিয়ে ইতিহাস গড়েছে রাজ্য সরকার। কারণ, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় এই এলাকা ছিল অবহেলিত। 

    মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণের কিছুদিনের মধ্যে শিলিগুড়িতে ঝটিকা সফরে এসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এখানে দলীয় সভায় উত্তরবঙ্গকে বিজেপির ‘ভদ্রাসন’ বলে ব্যাখ্যা করে উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে যান। এদিন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণের আভাস মিলল। মন্ত্রিসভায় শিলিগুড়ি মহকুমা থেকেই ঠাঁই পেয়েছেন দু’জন, শংকর ঘোষ ও আনন্দময় বর্মন। শংকর পূর্ণমন্ত্রী ও আনন্দময় প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করেন। 

    মন্ত্রী শংকরের বক্তব্য, এবার পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। অতীতে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও রুচিতে দেশের অনন্য জায়গায় ছিল। গত ১৫ বছরে শুধু ধ্বংস হয়েছে। রাজ্যে যে পতন হয়েছে, তা অবর্ণনীয়। এবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের দিক নির্দেশিকায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে ডবল ইঞ্জিনের সরকার। মন্ত্রী আনন্দময়ের বক্তব্য, পার্টি যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ফিরিয়ে আনবে আমাদের সরকার। 

    ‘রাজনগর’ কোচবিহার জেলা থেকে আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। এবারই উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম বিধানসভার স্পিকার হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। এদিন জেলা থেকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হলেন তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতী রাভা রায়। তিনি বিজেপির লড়াকু নেত্রী। দলের জেলা সভানেত্রী, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বও সামলেছেন। তিনি বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে রাজনীতি করছি। পাঁচবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এনিয়ে দু’বার জয়ী হয়েছি। এবার দল গুরুদায়িত্ব দিল, মন্ত্রী হলাম। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী ও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ। 

    চা, বাগান, জঙ্গল ও নদী ঘেরা আলিপুরদুয়ার জেলা পেল তিনজন মন্ত্রী। এরমধ্যে ফালাকাটার দীপক বর্মন ও কুমারগ্রামের মনোজ ওরাওঁকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী। বিশালবাবু ও দীপক বর্মন পরপর দু’বার এবং মনোজবাবু টানা তিনবারের বিধায়ক। এনিয়ে জেলাবাসী উচ্ছ্বসিত। মন্ত্রী দীপকবাবুর দাবি, বিগত বাম ও তৃণমূল জমানার বঞ্চনা ঘোচাতেই এমন পদক্ষেপ দলের। 

    উত্তর দিনাজপুর থেকে দু’জন কৌশিক চৌধুরী ও বিরাজ বিশ্বাস এবং মালদহ থেকে জোয়েল মুর্মু প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য বিরাজবাবু। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নিখিলরঞ্জন দে বলেন, উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো এতজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)