• জলপাইগুড়িতে ৭ বিধায়ক, মন্ত্রিত্ব পেলেন না একজনও
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জেলার সাতটি বিধানসভার সবক’টিতেই বিজেপি বিধায়ক। অথচ তাঁদের কেউ মন্ত্রিত্ব পেলেন না। কেন এমনটা হল, তা নিয়ে জলপাইগুড়িতে চর্চা তুঙ্গে। পাশের জেলা আলিপুরদুয়ারে যেখানে বিজেপির পাঁচজন বিধায়ক, সেখান থেকে তিনজনকে মন্ত্রী করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দার্জিলিং জেলার সমতল থেকেও মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন দু’জন। অথচ জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও তাঁদের কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান না দেওয়ায় বিস্মিত রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি জেলার নাগরিকরা। 

    বামফ্রন্টের আমলে জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। মালবাজার থেকে মন্ত্রী হন পরিমল মিত্র। জলপাইগুড়ি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সমবায়, উচ্চশিক্ষা, শিল্প, খাদ্যদপ্তরের মন্ত্রিত্ব সামলেছেন অধ্যাপক নির্মল বসু। এছাড়াও অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় ফালাকাটা থেকে যোগেশচন্দ্র বর্মন, কুমারগ্রাম থেকে দশরথ তিরকি প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। সেখানে জলপাইগুড়ি ভেঙে যে আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে তিনজন মন্ত্রিত্ব পেলেও জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একজনকেও মন্ত্রী না করা বিস্ময়ের, মন্তব্য ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক তথা দলের রাজ্য কমিটির সভাপতি গোবিন্দ রায়ের।

    এদিকে, জেলা থেকে রাজ্যের মন্ত্রিত্ব না মেলায় এবার জলপাইগুড়ির দু’বারের বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়কে কেন্দ্রের মন্ত্রী করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অনেকে। এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন জলপাইগুড়ি জেলা নাগরিক মঞ্চের সদস্য তথা জলপাইগুড়ি ট্যুর অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য পরামর্শদাতা সব্যসাচী রায়। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি জেলায় সাতজন বিজেপি বিধায়ক। অন্তত একজনকে পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা উচিত ছিল। তা যখন হল না, তখন জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের দু’বারের সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে জেলাবাসীর আক্ষেপ মেটানো হোক।

    জলপাইগুড়ি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রিত্ব না মেলায় কিছুটা হলেও মন ভেঙেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিলীপ শা বলেন, জেলার সাতটি বিধানসভার সবক’টিতেই বিজেপির বিপুল জয় হয়েছে। তাছাড়া এখানে দু’বারের বিজেপি সাংসদ রয়েছেন। ফলে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, জেলা থেকে একজনকে পূর্ণমন্ত্রী এবং একজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আমাদের খারাপ লাগছে। আশা করব, বর্তমান সরকার জলপাইগুড়ি জেলা থেকে কাউকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান দেবে। 

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, কে মন্ত্রী হবেন, সেটা ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী ও দলের উচ্চ নেতৃত্ব। এ ব্যাপারে আমার কী বলার আছে। তবে জলপাইগুড়ি থেকে আগামী দিনে নিশ্চয়ই রাজ্য মন্ত্রিসভায় কেউ স্থান পাবেন বলে মনে করেন জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়। তিনি বলেন, সবটা একেবারে ঘোষণা করে দিতে হবে, এমনটা কেন ভাবছেন? আমাদের দলের নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের সমস্ত বিষয় মাথায় আছে। কাকে, কোথায়, কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, সঠিক সময় হলে তা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাবেন। আমার মনে হয়, জলপাইগুড়ি থেকেও মন্ত্রী হবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)