• পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, ঘরছাড়া তৃণমূল নেতাদের নামে কোটি কোটি টাকার লোন, দুশ্চিন্তায় ব্যাংক
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাথার উপর কোটি কোটি টাকার ঋণ। অথচ, তৃণমূল কংগ্রেসের সেইসব নেতাদের কেউ গারদে, আবার কেউ ধরপাকড়ের ভয়ে আত্মগোপন করে আছেন। কেউ কেউ বাড়িতে থাকলেও লোন শোধ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে পাহাড়সমান লোনের টাকা কীভাবে ব্যাঙ্কে ফিরে আসবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই ব্যাংকের। রবিবার ভগবানপুর থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তৃণমূল নেতা রবিন মণ্ডল। তিনি এবার খেজুরি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। পরাজিত হওয়ার পর গ্রেপ্তারের ভয়ে কলকাতায় লুকিয়েছিলেন। তাতেও রেহাই পাননি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। নির্বাচনি হলফনামায় ওই তৃণমূল নেতা জানিয়েছিলেন, তাঁর লোনের পরিমাণ ২০কোটি ৬১লক্ষ টাকা। তারমধ্যে শুধু মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে লোনের পরিমাণ ৭কোটি ৩৭লক্ষ টাকা! এছাড়াও এসবিআই, পিএনবির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকেও লোন নিয়েছিলেন।

    ভগবানপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মানব পড়ুয়া ২০২০সালে মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর থাকাকালীন নিয়ম ভেঙে তাঁর দাদা মানসকুমার পড়ুয়ার নামে ১০কোটি ৮৯লক্ষ ৬৬হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়। সুদে আসলে সেই টাকা এখন ১৫কোটি ৩৫লক্ষ। ওই বিপুল পরিমাণ লোন নেওয়ার পর মানসবাবু আর ব্যাঙ্কের দিকে যাননি। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করেছে। অনেকেই বলেন, মানববাবু প্রভাব খাটিয়ে লোন পাইয়ে দিয়েছিলেন। এখন সেই লোনের কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা এভাবে নেতারা নিজে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে পাইয়ে দিয়ে এখন ব্যাঙ্ককে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছেন। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গাঢাকা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা মানব। শুধু মানব নন, তাঁর সঙ্গে ভগবানপুর-২ব্লক তৃণমূল সভাপতি উত্তম ওরফে অরুণ মাইতি সহ একঝাঁক নেতৃত্ব গাঢাকা দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে তাঁরা আড়ালে চলে গিয়েছেন। এখন বকেয়া লোনের কী হবে তানিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই ব্যাঙ্কের। 

    তৃণমূল কংগ্রেসের কাঁথি উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবার পরাজিত হয়েছেন দেবাশিস ভুঁইয়া। তাঁর লোনের পরিমাণ ১কোটি ৪৬লক্ষ ৯৮হাজার ৯০৮টাকা। শুধুমাত্র কানাড়া ব্যাংক থেকে ১কোটি ১লক্ষ ৬২হাজার টাকা লোন নিয়েছেন।

    বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক মুগবেড়িয়ার বাসিন্দা চৈতন্যময় নন্দ বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের হাতে মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের জন্ম হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য এই ব্যাংক তৈরি হয়েছিল। এখন মুষ্টিমেয় কিছু লোকজনকে বিপুল পরিমাণ লোন দিয়ে তা শোধ না দেওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা অনাদায়ী লোন রয়েছে। আমরা চা‌ই অবিলম্বে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা হোক। নতুন কমিটি গঠন করে ব্যাঙ্কের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
  • Link to this news (বর্তমান)