বন্ধ টি-ব্যাগ, চা-বিস্কুটের মাসিক খরচেও ‘না’! পালাবদলের পর বেকায়দায় কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদরা
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় এক মেয়র পারিষদের অফিসে এসেছিলেন তাঁর এক বন্ধু। তাঁকে এক কাপ চা খাওয়ানোর জন্য হাঁক পাড়লেন মেয়র পারিষদ। সংশ্লিষ্ট কর্মী জানালেন, চা পাতা বা টি-ব্যাগ, কিছুই নেই! তখন মেয়র পারিষদ তাঁর অফিসের ওই কর্মীকে ক্যান্টিন থেকে টি-ব্যাগ নিয়ে আসার কথা বলেন। সেই কর্মী বলেন, ‘কোনো বিল ক্লিয়ার হচ্ছে না স্যার। তাই ক্যান্টিন জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত চা, বিস্কুট কিংবা গুঁড়ো দুধের জোগান দিতে পারবে না তারা।’ এমন কথা শুনে দৃশ্যতই অস্বস্তি বাড়ল বর্ষীয়ান মেয়র পারিষদের। শেষমেশ পকেট থেকে টাকা দিয়ে বন্ধুর জন্য চা-বিস্কুট আনিয়ে ‘মানরক্ষা’ করলেন তিনি!
নির্দিষ্ট কোনো মেয়র পারিষদ নয়, রাজ্যে পালাবদলের পর সব মেয়র পারিষদের জন্যই এই ‘নির্দেশ’! এরকম ‘ছোটখাটো’ ক্ষেত্রেও অর্থ বরাদ্দ না করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যথারীতি। জানা গিয়েছে, পুরভবনে মেয়র পারিষদদের অফিসে প্রতি মাসে যে চা-বিস্কুট কিংবা গুঁড়ো দুধের প্রয়োজন পড়ে, সেগুলি নিয়মমাফিক ক্যান্টিনের স্টাফদের জানানো হয়। তাঁরাই এসে দিয়ে যান। মাসের শেষে ক্যান্টিন থেকে খরচের হিসাব আসে মেয়র পরিষদের অফিসে। কর্মীরা সেই হিসাব খতিয়ে দেখে বিল প্রস্তুত করে পুর-সচিবালয়ে জমা দেন। সচিবালয় থেকে সেটি অনুমোদন পেলেই জমা করে দেওয়া হয় অর্থবিভাগে। তারা দ্রুত ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের পাওনা মিটিয়ে দেয়। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। পুরসভার কর্মীরা জানাচ্ছেন, প্রতি মাসে এই খাতে (মিসলেনিয়াস) মেয়র পারিষদদের অফিস পিছু সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা ধরা থাকে। মেয়র এবং পুর কমিশনারের ক্ষেত্রে এই বরাদ্দ কিছুটা বেশি এবং এই খরচ সরাসরি অর্থবিভাগের হাতে রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর অর্থাৎ মে মাস থেকে মেয়র পারিষদদের এই খাতের বিল ‘ঝুলিয়ে’ রাখা হয়েছে। বলে দেওয়া হয়েছে, আপাতত টাকা ছাড়া হবে না। তাই ক্যান্টিন থেকে মেয়র পারিষদদের ঘরে চা-বিস্কুট পাঠানো হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে ওই বর্ষীয়ান মেয়র পরিষদ বলেন, ‘এমন ছোটখাটো বিষয়ে অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া তো অপমানের শামিল। এটা নোংরামো হচ্ছে। এই টাকাটা আমাদের সাম্মানিকের মধ্যে পড়ে। এমন বিতর্কিত অপ্রীতিকর ঘটনা আগে হয়েছে বলে শুনিনি।’ পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাও তাঁদের অফিসের এই ‘মিসলেনিয়াস’ খাতে খরচ পেয়ে থাকেন। এক বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘আমরা অনেকেই এই বাবদ টাকা পুর কোষাগার থেকে নিই না।। নিজেদের খরচেই চলছে, যেমন চলে।’