• তৃণমূল ভাঙার চক্রান্ত করছে বিজেপি, আমিও কিন্তু বড়ো খেলোয়াড়: মমতা, আজ ধর্মতলায় নেত্রীর ধরনা নিয়ে টানাপোড়েন
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে ভাঙার খেলায় নেমেছে বিজেপি। সরাসরি এই অভিযোগ আনলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দেশের রাজনীতিতে পোড়খাওয়া এই রাজনীতিবিদ জানিয়ে দিলেন, আমিও কিন্তু বড়ো খেলোয়াড়! রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক। তাতেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল তৃণমূলের অন্দরে বড়োসড়ো কিছু ঘটতে চলেছে। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আড়াআড়িভাবে তৃণমূল ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়ে গেল। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে দলের মধ্যেই অন্য বিধায়কদের নিয়ে পৃথক একটি সংগঠন তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে খবর। কালবিলম্ব না করে কিছু তথ্য পাওয়ার পরেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। মমতা জানান, সিপিএম ওকে (ঋতব্রত) বহিষ্কার করেছিল। সিপিএমের সিদ্ধান্তকে কদর করি। আমরা ওকে সাংসদ করেছিলাম। তারপর হাওড়া থেকে অন্যের টিকিট কেটে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী করে বিধায়ক করেছি। এখন সেই কি না বিশ্বাসঘাতকতার আচরণ করল! আর একজন সম্পত্তি বাঁচাতে চায়। আর একজন সাংসদও আছেন (কাকলি) যিনিও তাঁর ছেলের টিকিটের জন্য পায়ে পড়েছিলেন। টিকিট দিইনি বলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

    মমতার কাছে খবর এসেছে, তৃণমূলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যে বিজেপি শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ থেকে ফোন করে তৃণমূল বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তারপর বিজেপির নেতা ফোন করছেন তৃণমূল বিধায়ককে। নিজের সম্পত্তি বাঁচাতে, না হলে বিজেপির টাকার কাছে, না হলে পুলিশের ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আমার কাছে ৪ জন তৃণমূল বিধায়ক এসে বলে গিয়েছেন, পুলিশ কীভাবে ভয় দেখাচ্ছে।

    ঠিক এরপরই মমতা তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব‌্য, বিজেপি ভয় দেখিয়ে বা টাকা দিয়ে তৃণমূল ভাঙার খেলায় নেমেছে। কিন্তু ওরা জানে না আমিও বড়ো খেলোয়াড়। তার জন্য আর একটু অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। আমি এক সেকেন্ডে হাত মিলিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি করিনি। নীতি ও আদর্শের কারণে। গায়ের জোরে দল ভাঙার যতই চেষ্টা করুক, তৃণমূল আরো শক্তিশালী হবে।

    নাম না করে এদিন বিজেপি নেতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতার বিস্ফোরক দাবি, কয়েকদিন আগে কোনো কিছুর মারফত খবর পাঠিয়েছিলেন, অভিষেককে তাড়িয়ে দিলে কেউ কেউ দলে চলে আসবে। কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ যিনি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাঁর নৈতিক চরিত্র জানি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৭৭টি আসনে রিগিং করেছে বলে অভিযোগ মমতার। ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস এবং সোনারপুরে অভিষেককে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ এনেছেন। সার্বিক ঘটনা নিয়ে আজ, মঙ্গলবার ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে ধরনা কর্মসূচি নিয়েছেন মমতা। কিন্তু সোমবার কর্মসূচির জন্য মঞ্চ বাঁধতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পরে তৃণমূলকে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় পুলিশ। কিন্তু তার অনুমতি রাত পর্যন্ত মেলেনি বলে দাবি করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, পুলিশ যেখানে আটকাবে সেখানেই বসে পড়ব।
  • Link to this news (বর্তমান)