না জেনে অবৈধ ফ্ল্যাট কিনলেও অতিরিক্ত আইনি নিরাপত্তা নয়, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: না জেনে অবৈধ বা বেআইনি ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতার দায় কতটা? এই ধরনের ঘটনায় ক্রেতা কী অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা পাবেন? সাম্প্রতিককালে একাধিক বৈআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় ঘুরে ফিরে এসেছে এই প্রসঙ্গ। এবার সেই প্রশ্নের জবাব দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অবৈধ বা বেআইনি ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতা কোনোরকম অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা পাবেন না। হাওড়া পুরসভা এলাকায় একটি অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রুজু হওয়া মামলায় একথা জানিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চ । বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাট বিক্রেতার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রেতার আইনি অধিকার বেশি হতে পারে না।
রাজ্যজুড়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণের তথ্য সামনে আসছে। একাধিক জায়গায় নেমেছে বুলডোজারও। সেই আবহেই হাওড়ায় একটি নির্মাণ পুরসভা অনুমোদিত ‘প্ল্যান পাশ’ মেনে তৈরি কি না, তা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্তে উঠে আসে, গোটা বিল্ডিং নির্মাণে পুরসভার নিয়ম মানা হয়নি। অনুমোদন ছিল তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করার। কিন্তু নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা! অর্থাৎ অতিরিক্ত একটি তলা নির্মিত হয়েছে বেআইনিভাবে। এরপরই হাইকোর্ট ওই অবৈধ তলাটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পুরসভা প্রথমে বাড়ির মালিককে অবৈধ অংশ ভাঙতে বলে। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পরে অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা। তবে পুরোটা ভাঙা হয়নি। এরই মধ্যে গতবছর মামলাকারী মৌসুমী রায় এবং তাঁর পরিবার চারতলার ওই ফ্ল্যাটটি কেনেন। তাঁদের বক্তব্য, গতবছর নভেম্বর মাসে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি হয়েছে। কিন্তু আগাম কোনো নোটিস না দিয়েই চার তলাটি ভাঙার কাজ করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্য না শুনেই এখন বিল্ডিংয়ের উপরের অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
যদিও হাইকোর্ট জানিয়েছে, এটা ঠিক যে মামলাকারীরা অনেক পরে ওই সম্পত্তি কিনেছেন। তবুও ওই জমির উপর তাঁদের আইনি অধিকার তৈরি হয় না। আইনি অধিকার জমির মালিকেরই রয়েছে। মামলাকারীরা স্বাভাবিকভাবেই যে দাবি করেছেন, তা যুক্তিসংগত নয়। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতিটি সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত শুনানি করা বাধ্যতামূলক নয়। কোনো পক্ষের বক্তব্য শুনলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, এমন প্রমাণ দেখাতে হবে। শেষমেশ আদালত মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মেনে ওই ভবনের চারতলা ভাঙতে পারবে পুরসভা।