• ‘রোজ টাকা বাঁচবে আবার এসি বাসে চড়তেও পারব’, ফ্রি যাত্রায় আপ্লুত মহিলা যাত্রীরা
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অভাবের সংসার। হাড়ভাঙা খাটুনির পর সামান্য ক’টা টাকা রোজগার। তা দিয়েই দু’বেলা হাঁড়ি চড়ে, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোটে। তাই ১০ টাকা ভাড়ার জায়গায় অনেকেই দর-কষাকষি করে কনডাক্টরের হাতে ধরাতেন পাঁচ টাকার কয়েন। প্রখর গ্রীষ্মে শরীর পুড়লেও এসি বাস ছিল তাঁদের কাছে নেহাতই ‘বিলাসিতা’! কিন্তু, ১ জুন সকাল থেকেই সেই ঘামে ভেজা মুখে হাসির ঝলক। অভাবের টানে তাঁরা পরিচারিকা। কিন্তু, তাতে কী। কাজে যেতে আর ভাড়া লাগবে না তাঁদের। তাই বেসরকারি বাস ছেড়ে এখন সরকারি এসি! দরজা খুলতেই ঠান্ডা হওয়া। বিনামূল্যের স্বস্তির যাত্রা। নামার সময় তাঁরা বললেন, টাকাও বাঁচবে। আবার এসি বাসেও চড়তে পারব। সোমবার এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কেষ্টপুর থেকে বাঙ্গুর।

    কেষ্টপুর থেকে বহু পরিচারিকা রোজ বাঙ্গুর, দমদম পার্ক, সল্টলেকে যাতায়াত করেন। তার মধ্যে কেষ্টপুর থেকে বাঙ্গুর পর্যন্ত আসা পরিচারিকার সংখ্যাই বেশি। বেসরকারি বাসে কেষ্টপুর থেকে বাঙ্গুর পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা। কিন্তু, পরিচারিকারা কনডাক্টরের কাছে আব্দার করতেন। বেশিরভাগ বেসরকারি কনডাক্টর মানবিক কারণেই তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা ভাড়া নিতেন। তবে, কেউ কেউ ১০ টাকাও নিতেন। ছাড় দিতেন না। তাঁরা কোনোদিন ভাবেননি কাজে যাবেন বিনামূল্যে। ক্ষমতায় আসার আগেই সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি করার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেই ঘোষণার সূচনা হল সোমবার। অফিস যাত্রী হোক বা নিত্যযাত্রী, স্কুল-কলেজ হোক বা গৃহবধূ। রাজ্যের মহিলা হলেই সরকারি বাসে ফ্রি। নন-এসি কিংবা এসি। ভাড়া লাগবে না আর।

    এদিন পরিচারিকাদের সবার হাতেই ছিল আধার কার্ড। কেউ কেউ আবার বাড়তি নথির জন্য সঙ্গে এনেছিলেন ভোটার কার্ডও। সাতসকালে তাঁদের অনেকেই কেষ্টপুর বাসস্টপে যান। সরকারি এসি বাস থামতেই হাসিমুখে একে একে উঠে পড়েন তাঁরা। কনডাক্টরকে প্রত্যেকে আধার কার্ড দেখান। বাঙ্গুর, লেকটাউনে নেমে সকলে নিজের নিজের কাজে চলে যান। এক পরিচারিকার কথায়, এসি বাসে ২০-২৫ টাকার কমে ভাড়া নেই। কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি এই বাসে উঠব। কারণ, এসিতে যাতায়াত করলে মাসে দেড় হাজার টাকা খরচ! তাহলে সংসার চলবে কী করে? তাই বেসরকারি নন এসি বাসেই এতদিন যাতায়াত করেছি। আরেক পরিচারিকার কথায়, এই গরমে একটু আগে বাসস্টপে এসে দাঁড়াব। যাতে এসি বাস পাই। একান্ত না পেলে সরকারি নন-এসিতেই যাব। ভাড়া তো লাগবে না। এর চেয়ে স্বস্তি আর কী আছে? 

    তবে, মহিলাদের ফ্রি নিয়ে দু’-একটি অন্যরকম ঘটনারও সাক্ষী থাকল এদিন। এয়ারপোর্ট রুটে এসি বাসে উঠেছিলেন বিহারের এক মহিলা যাত্রী। তিনি ভাড়া দেওয়ার আগে দেখেন, বাকি মহিলাদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আধার কার্ড দেখিয়ে দিচ্ছেন। ওই মহিলাও ব্যাগ হাতড়ে বের করেন আধার কার্ড। তারপর হাসিমুখে বাড়িয়ে দেন কনডাক্টরকে। কনডাক্টর কার্ড পড়ে দেখেন, তিনি বিহারের বাসিন্দা! কনডাক্টরের জবাব, এ রাজ্যের মহিলাদের জন্য ফ্রি! আপনার ভাড়া লাগবে। মহিলা বলেন, আমিও তো মহিলা! যদিও তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। শেষমেশ মানিব্যাগ খুলে ৫০ টাকার নোট ধরান তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)