বাগুইআটির স্ট্যাক ইয়ার্ডে ঠাঁই ‘মেসি’র, ট্রেলারে মূর্তি নিয়ে ৩ কিমি যেতে সময় লাগল ৫৫ মিনিট!
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এ যেন ‘গালিভারস ট্রাভেলস’-এর গল্প! বিশালাকার মেসি মূর্তি। হাইড্রলিক ক্রেন দিয়ে শোয়ানো হয়েছে লম্বা ট্রেলারের উপর। দড়ি দিয়ে বাঁধা হাত-পা-কোমর। ‘গালিভার’ যেন লিলিপুটদের হাতে বন্দি! তবে এখানে কোনো দ্বীপ নেই। তার বদলে মসৃণ পিচরাস্তা—ভিআইপি রোড। সামনে ট্রাফিক পুলিশের নিরাপত্তা। বিশালাকার মূর্তি ট্রেলারে চিৎ হয়ে শুয়ে এগিয়ে চলেছে! মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা। যেকোনো গাড়িতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট। কিন্তু বিশাল মেসিকে নিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগল প্রায় ৫৫ মিনিট! কয়েকদিন আগে নজরে আসে, হাওয়ায় দুলছে লেকটাউন মোড়ের মেসি। সেই মতো শুরু হয়েছিল রক্ষণাবেক্ষণও। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থেই অবশেষে লেকটাউন থেকে সেই মেসির ঠাঁই হল বাগুইআটিতে পূর্তদপ্তরের স্ট্যাক ইয়ার্ডে। আপাতত সেখানেই থাকবেন এই ‘আন্তজার্তিক তারকা’!
মেসিকে নিয়ে যুবভারতী-কাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি। নতুন করে এফআইআর রুজু হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান ছিল। তারকাকে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের ক্ষোভে সেই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেলেও লেকটাউনে মেসির মূর্তি স্থাপন হয়েছিল ঘটা করেই। সশরীরে হাজির না হলেও মেসি স্বয়ং ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন সেই মূর্তি। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু ওই মূর্তি বসিয়েছিলেন লেকটাউন মোড়ে। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা। তার মধ্যে শুধুমাত্র মূর্তির উচ্চতাই প্রায় ৪৪ ফুট। বাকি ২৪ ফুট ছিল বেদী। মূর্তিটি গ্লাস ফাইভারের। ইন্ডিয়া সফরের যে ভিডিয়ো মেসি শেয়ার করেছিলেন, সেখানেও এই মূর্তি ছিল। তবে মূর্তির আকৃতি ও অবয়ব নিয়ে প্রথম দিন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। অনেকে ‘হৃত্বিক রোশন’ বলে ব্যঙ্গও করেছিলেন এই মূর্তিকে।
রাজ্যে পালাবদলের আগে পর্যন্ত গ্লাস ফাইভারের মেসি ছিলেন ‘অক্ষত’। গত ২৫ মে সকাল থেকেই জোরে হাওয়া বইছিল। তখনই অনেকে লক্ষ্য করেন, মেসি দুলছেন! পরদিন রাতেই সেই মেসির কোমরে দড়ি বেঁধে ‘পতন’ ঠেকানোর কাজ শুরু হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে মূর্তিটি সেখান থেকে সরানোর জন্য পূর্তদপ্তর সেদিনই লেকটাউন থানাকে চিঠি দেয়। সোমবার সকালে লেকটাউনে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, আধিকারিক, পুলিশের উপস্থিতিতে আনা হয় হাইড্রলিক ক্রেন, হাইডার, ট্রেলার সহ নানা সরঞ্জাম। সকাল ৯টা থেকে মূর্তি সরানোর কাজ শুরু হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দুপুর ১টা নাগাদ মেসির মূর্তি তোলা হয় ট্রেলারে। চূড়ান্ত সাবধানতার সঙ্গে সেই মূর্তি লেকটাউন থেকে বাগুইআটি ফ্লাইওভারের পাশে স্ট্যাক ইয়ার্ড পর্যন্ত (মাত্র তিন কিলোমিটার) নিয়ে যেতে প্রায় ৫৫ মিনিট লেগে যায়। রাস্তায় এই দৃশ্য ফোনে ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা যায় অনেককে। এক আধিকারিক বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্যই মূর্তি সরানো হল। আপাতত স্ট্যাক ইয়ার্ডেই রাখা থাকবে।