পিসিআর ভ্যান নিয়েই তোলাবাজি! শ্যামপুকুর থানার ৩ পুলিশ সাসপেন্ড
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের পিসিআর ভ্যান নিয়ে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তোলবাজির অভিযোগ উঠল। সাসপেন্ড হলেন শ্যামপুকুর থানার এক অ্যাসিসট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, একজন কনস্টেবল ছাড়াও গাড়ির চালক। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। কীভাবে ডিউটি ছেড়ে অন্য জায়গায় গেলেন তা নিয়ে তাঁরা জেরার মুখে পড়তে চলেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২১ মের। ওই দিন পিসিআর ভ্যানের ডিউটিতে ছিলেন এএসআই শিশিরকুমার দলুই, কনস্টেবল গৌর ঘোষ। পুলিশের ওই গাড়ির চালক ছিলেন সাত্তার মোল্লা। লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে কোনো দুর্ঘটনা, ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যার খবর এলে এই গাড়ি পাঠানো হয়। প্রতিটি গাড়িতে রয়েছে জিপিএস সিস্টেম। যাতে গাড়ির লোকেশন মনিটরিং সরাসরি করতে পারে লালবাজার। একইসঙ্গে গাড়ির অবস্থান জানা যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় পিসিআর ভ্যানের ডিউটি ছিল শ্যামপুকুর থানা এলাকার শ্যামবাজারের কাছে একটি বিটে। কিন্তু নির্দিষ্ট বিটে ডিউটি না করে সেটি হাতিবাগান ছাড়িয়ে অন্য এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেই সঙ্গে জিপিএস বন্ধ করে দেয়। তা দেখে সন্দেহ হয় লালবাজারের। দীর্ঘক্ষণ খোঁজ করার পরেও গাড়িটি পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন অবস্থায় সিসি ক্যামেরা দেখে গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়। এরমাঝে পুলিশের কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করে, ওই পিসিআর ভ্যান বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তোলা আদায় করছে। লরি চালকদের ভয় দেখাচ্ছে, তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাঁকুড়ার বারিকুলের এক ব্যবসায়ীর কাছে ওই পিসিআর ভ্যানে থাকা পুলিশকর্মীরা টাকা চেয়ে বসেন। খবর পৌঁছে যায় লালবাজারে। পিসিআর ভ্যানটিকে সঙ্গে সঙ্গে ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যেহেতু এই ভ্যানটি নিয়ন্ত্রিত হয় কন্ট্রোল রুম থেকে, তাই লালবাজার থেকে পিসিআর ভ্যানের ডিউটিতে থাকা তিন পুলিশকর্মীকে ডেকে পাঠানো হয়। কী কারণে তাঁরা জিপিএস বন্ধ করেছিলেন এবং নির্দেশ ছাড়া নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যের এলাকায় গেলেন কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এই তিনজনকে। কিন্তু কেউ সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এরপর সাসপেন্ড করা হয় তিন পুলিশকর্মীকে। সেই সঙ্গে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও বড়ো ধরনের শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।