• বাসযাত্রা ফ্রি, প্রথম সফরে খুশি বাংলার মহিলারা
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘রোজ বালিগঞ্জ থেকে বাসে চেপে ডালহৌসি আসি। মাসে পাঁচ-সাতশো টাকা খরচ। আজ থেকে আর হবে না। কিছু টাকা তো বাঁচবে!’ কয়েকশো ওয়াট ঔজ্জ্বল্যের হাসি সুমনা হালদারের মুখে। খুশি আলোলিকা সরকারও। উচ্ছ্বাস এতটুকু চেপেও রাখছেন না তিনি। বললেন, ‘এ যেন হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো!’ সুমনা হোক, আলোলিকা, বা সুমনা মণ্ডল... এঁরা প্রত্যেকেই বাংলার নারী। নাম বদলাতে পারে, কিন্তু প্রত্যেকে এই ১ জুন তারিখটা ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রেখেছেন। কারণ, এই তারিখ থেকে তাঁদের বাসযাত্রা ফ্রি করে দিল সরকার। সরকারি বাসে উঠে আধার বা ভোটার কার্ড দেখালেই মিলছে বিনামূল্যে যাত্রার অনুমতি। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাসে কয়েকশো টাকা একটা মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক। আর এই ‘লক্ষ্মী’রাই তো সংসারের মেরুদণ্ড! তাই খুশি তাঁরা। সাধুবাদ তাঁরা জানাচ্ছেন রাজ্য সরকারকে। 

    সোমবার সকাল থেকেই এমন টুকরো টুকরো ছবি রাজ্যজুড়ে। কেউ আইটি কর্মী, কেউ পরিচারিকা, কেউ গৃহবধূ। পেশা যাই হোক না কেন, সোমবার এই একটি অঙ্কে তাঁরা এক মঞ্চে। খুশি টালিগঞ্জের বাসিন্দা স্কুলপড়ুয়া নিমিশা হালদারও। সে এবার থেকে ‘পকেটমানি’ বাঁচাতে পারবে! ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ডেও খুশির হাওয়া। দীঘা-মন্দারমণি যাত্রাও যে ফ্রি! আধার কার্ড দেখানোর পর হাতে পেয়েছেন তাঁরা ‘শূন্য’ ভাড়া লেখা টিকিট। ‘ফ্রি’তে ঘুরতে যেতে পেরে আপ্লুত সর্বাণী দাস-শ্রীমন্তী সেনরা। পর্ণা দে’র কথায়, ‘প্রথমবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হাতে পেয়ে যেমন খুশি হয়েছিলাম, বাসের ফ্রি টিকিটের প্রথম অনুভূতিও অনেকটা তেমন।’ 

    এদিন বালিগঞ্জ বাস ডিপোয় গিয়ে মহিলাদের অভিজ্ঞতা শোনেন স্বয়ং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আবার সকালে দীঘা ও হলদিয়া এসবিএসটিসি ডিপোয় মহিলা যাত্রীদের নিখরচায় যাতায়াত উপলক্ষ্যে হয় অনুষ্ঠানও। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বিধায়করা উপস্থিত থেকে কয়েকজনের হাতে ‘স্মার্টকার্ড’ তুলে দেন। কোথাও মহিলাদের হাতে গোলাপ দেওয়া হয়েছে, কোথাও হয়েছে মিষ্টিমুখ! দীঘা থেকে খড়্গপুরগামী মামণি শাসমল, কোলাঘাটের রাইমা জানা, কিংবা কলকাতার অনামিকা গোস্বামী, এই সুবিধায় সবার মনেই খুশির বান ডেকেছে। শালবনীর বাসিন্দা সুস্মিতা দাস বলছিলেন, ‘যাঁরা প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করে, তাঁরা যাতায়াতের জন্য কোম্পানির থেকে টাকা পায় না। খুবই সুরাহা হল।’

    বর্ধমানের আলিশা বাসস্ট্যান্ড, সিউড়ি, রামপুরহাট, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া কিংবা আরামবাগেও ছবিটা এক। তবে যাত্রীরা বলছেন, সকালের দিকে আলিশা থেকে ধর্মতলা, বা করুণাময়ী যাওয়ার বাসের সংখ্যা বাড়ানো হলে তাঁরা আরও বেশি উপকৃত হবেন। এদিন সকাল ১০টার মধ্যে বাঁকুড়া ডিপো থেকে ১৩৭ জন মহিলা ‘জিরো’ টিকিট কাটেন। কর্মরত মহিলা, কলেজ ছাত্রী থেকে গৃহবধূ—বাদ যাননি কেউ। তবে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন রুটে সরকারি বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনুযোগ ছিল মহিলা যাত্রীদের মধ্যে।

    খুশির হাওয়া এনবিএসটিসির প্রধান কার্যালয় কোচবিহারেও। ফুলবাড়িতে বাসে ওঠা মহিলা যাত্রীদের বিজেপি কর্মীরা পদ্মফুল হাতে দেন, মিষ্টিমুখ করান। টুঙ্গিদিঘীর বাসিন্দা প্রভা সরকার। বলছিলেন, ‘রায়গঞ্জ কলেজে পড়াশোনা করি। টুঙ্গিদিঘী থেকে নিত্য যাতায়াত। রোজ বাসভাড়াতেই বেরিয়ে যায় ৫০ টাকা। এদিন আধার কার্ড দেখানোর পর জিরো টিকিট পেয়েছি। সত্যি বলছি, পড়ুয়াদের খুব সুবিধা হল।’ অনেক মহিলা বালুরঘাট থেকে বাসে চেপে রওনা দেন শিলিগুড়ির উদ্দেশে। এখন যে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার পালা! বিনামূল্যে।
  • Link to this news (বর্তমান)