সই কাণ্ডে সিআইডির হাতে নয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য, ‘জালিয়াতি’ মামলায় আরো বিপাকে অভিষেক?
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
কলকাতা, ২ জুন: এ যেন ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’!
বিধায়কদের সই ‘জাল’ কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূলের। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ফরওয়ার্ডিং লেটারের সঙ্গে যে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত কাগজ বিধানসভার সচিবের কাছে জমা পড়েছিল, তাতে আরো একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেল সিআইডি। এমনই জানা গিয়েছে ভবানীভবন সূত্রে। সই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ‘জালিয়াতি’ সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করেছে সিআইডি। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেককে ফের ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৮ জুন ভবানীভবনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল হাজির হননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সিআইডি সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো যে তালিকা বিধানসভার সচিবের কাছে জমা পড়েছে তাতে ক্রমিক নম্বর ঠিক নেই। একই সঙ্গে তারিখেও একাধিকবার কাটাকুটি। অনেকেই ৫ মে সই করেছেন। অথচ বৈঠক হয়েছিল তার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ তারিখ। এই সমস্ত অসংগতি কেন? উঠছে প্রশ্ন। তদন্তকারীদের দাবি, জালিয়াতির কারণে চিঠিতে এতো অসংগতি আছে।
সই কাণ্ড নিয়ে গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সই জালের বিষয়টি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন বসুর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। ওই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই হয়েছিল এফআইআর এবং সিআইডি তদন্ত। ১৪ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। তার মধ্যে অরূপ রায়, শুভাশিস দাস এবং বাহারুল ইসলাম ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন, ওই সই তাঁদের নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের পর তড়িঘড়ি সই ‘জাল’ ফাঁস কাণ্ডে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।