কেজি পিছু দাম কম মিললেও মাছ ও সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিতে সাফল্য
বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুদ্ধের কারণে একদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ। তার জেরে অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজার। এরই মধ্যে গত অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-’২৬ সালে শুল্ক নিয়ে একাধিকবার ভারতকে বেকায়দায় ফেলেছে আমেরিকা। তারপরও মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিতে সাফল্য পেল দেশ। যে অঙ্কের পণ্য ভারত থেকে রপ্তানি হয়েছে, তা আগে কখনও হয়নি, এমনই দাবি করেছে কেন্দ্র। তবে সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, মাছ সহ সামুদ্রিক পণ্যের দামের সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হয়েছে ভারত। কেজি পিছু যে দাম ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে মিলেছিল, তার চেয়ে এবার বিক্রিমূল্য কম। এবারও সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানির সিংহভাগ দখলে রেখেছে চিংড়ি। সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, চিংড়ির দাম ভালো মিললেও, অন্যান্য হিমায়িত মাছের দাম কম পাওয়ায় সার্বিকভাবে কেজি পিছু দর কম মিলেছে। সার্বিকভাবে যে সাফল্য মিলেছে, তার ভাগীদার পশ্চিমবঙ্গও। মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানির সেরা পাঁচটি বন্দরের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কলকাতা।
বাণিজ্য মন্ত্রকের আওতায় থাকা মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমপেডা) যে তথ্য সামনে এনেছে, তাতে গত ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ১৯ লক্ষ ৭২ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় তা ১৬.৩ শতাংশ বেশি। ৭৩ হাজার ৮৯০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে ওই সামুদ্রিক পণ্য। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পণ্যের দাম ছিল কেজি পিছু ৪.৩৯ ডলার। গত অর্থবর্ষে তা কমে হয়েছে কেজি পিছু ৪.২৯ ডলার। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে মোট চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৬০০ টন। কেজি পিছু দাম মিলেছে ৭.১ ডলার। এক বছর আগে দাম পাওয়া গিয়েছিল ৬.৯৮ ডলার। অন্যদিকে, হিমায়িত মাছের দাম যেখানে ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে কেজি পিছু ১.৮৩ ডলার ছিল, তা কমে ১.৮১ ডলার হয়েছে গত অর্থবর্ষে। জীবন্ত সামুদ্রিক প্রাণীর দামও এক বছরে কেজি পিছু ৭.৯৪ ডলার থেকে ৭.২৭ ডলারে নেমে এসেছে। এমপেডা জানাচ্ছে, সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানিতে সবার আগে রয়েছে বিশাখাপত্তনম বন্দর। মোট রপ্তানির ২৭.৪২ শতাংশ তাদের দখলে। কলকাতা বন্দর রয়েছে চতুর্থ স্থানে। তার দখলে রয়েছে রপ্তানির ৮.০৪ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্তাদের দাবি, এরাজ্যের রপ্তানির সিংহভাগই দখলে রেখেছে চিংড়ি। সেই তালিকায় আছে ভেনামাই, গলদা ও বাগদা।