• গ্রাহকের ভোগান্তি অব্যাহত থাকলেও গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক বলে দাবি তেল সংস্থাগুলির
    বর্তমান | ০২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সব কিছু ঠিক আছে! রান্নার গ্যাসের জোগান একেবারে স্বাভাবিক। গত এক মাস ধরে এলপিজি নিয়ে এই বার্তা নিয়ম করে দিয়ে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশেই যে তারা প্রতিদিন এই বার্তা পাঠাচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, বলছে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ। আর তাতেই তাঁরা পড়েছেন ফাঁপরে। তাঁদের কথায়, রান্নার গ্যাসের জোগানে গত একমাসে প্রায় কোনো উন্নতিই হয়নি। শহরাঞ্চলে গ্রাহকদের দু’টি সিলিন্ডার ডেলিভারির মধ্যে সময়ের ফারাক থেকে যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ দিন। কোথাও কোথাও তা আরও বেশি। গ্রামাঞ্চলে সিলিন্ডার ডেলিভারির জন্য আরও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। তার জন্য জবাবদিহি করতে হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউটরদেরই। এই অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির তরফে সবকিছু ঠিক থাকার বার্তা আরও বিপাকে ফেলছে তাঁদের।

    মার্চ মাসের মাঝামাঝি নাগাদ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর থেকেই রান্নার গ্যাস নিয়ে নাজেহাল অবস্থা গ্রাহকদের। একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর পরেরটি বুকিং করার জন্য ন্যূনতম সময় শহরের জন্য ২৫ দিন এবং গ্রামের জন্য ৪৫দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিকে সিলিন্ডার বুকিং করলেই যে তা মিলছে, এমন নয়। প্রায় সব গ্রাহকই বুকিংয়ের কয়েকদিন পর এসএমএস পাচ্ছেন, তাঁর সিলিন্ডার ডেলিভারি পেতে আরও সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। ফলে গ্রাহকদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ক্রমশ। ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, তাঁরা চাহিদামতো তেল সংস্থাগুলি থেকে সিলিন্ডারের জোগান পাচ্ছেন না। সেই কারণেই গ্রাহককে আরও সময় অপেক্ষা করার এসএমএস পেতে হচ্ছে।

    কী বলছে তেল সংস্থাগুলি?

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রলিয়াম এবং হিন্দুস্থান পেট্রলিয়ামের দাবি, জোগানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রত্যেকটি সংস্থা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখছে। প্লান্ট থেকে রিটেল আউটলেট বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পর্যন্ত যেমন সর্বস্তরে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি জোগানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তেমনই রাজ্য সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে বলে দাবি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির। তাদের দাবি, পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনো অভাব নেই। তাই কম জ্বালানি আছে মনে করে এলপিজির প্যানিক বুকিং বা আতঙ্কে তেল বেশি করে কেনার কোনো কারণ নেই। টার্মিনাল বা ডিপো থেকে পেট্রল পাম্পগুলিতে এবং বটলিং প্লান্টগুলি থেকে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে এবং তার যথাযথ মনিটরিং করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ, প্যানিক বুকিংয়ের প্রশ্নই কোথা থেকে আসছে, অজানা ডিস্ট্রিবিউটরদের। তাঁদের কথায়, ‘প্রতিদিন গ্রাহকদের বলা হচ্ছে প্যানিক বুকিং না করতে। এদিকে যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গ্রাহকরা বাধ্য হচ্ছেন, তারপরও তাঁরা ইচ্ছা করলে তাড়াহুড়ো করে বারবার বুকিং করতে পারবেন না। তেল সংস্থাগুলির সফ্টওয়্যার তা গ্রহণ করবে না। তাদের একাংশের বক্তব্য, ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তেল সংস্থাগুলি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউটরদের।
  • Link to this news (বর্তমান)