মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার মৃত্যুকাণ্ডে সামনে এল নয়া অভিযোগ। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অভিযোগ করেছেন, ত্বিষার স্বামী অভিযুক্ত সমর্থ সিংয়ের বন্ধুরা তাঁকে মারধর করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি। আমাকে ওঁরা মেরে ফেলতে পারে।’
অভিযোগকারী সাক্ষীর নাম নীরজ দুবে। তিনি ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় সমর্থ সিংদের বাড়ির কাছেই একটি স্যাঁলো চালান। নীরজের দাবি, ৩০ মে চার-পাঁচ জন যুবক তাঁর উপর হামলা চালায়। তারা তাঁকে প্রশ্ন করে, কেন তিনি এই মামলায় সাক্ষী হয়েছেন এবং আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য তারা চাপ দেয়।
নীরজ দুবের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিবাদ করতেই ওই যুবকেরা তাঁকে মারধর করে। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। পরে নীরজ কাটারা হিলস থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশি সুরক্ষার আবেদন জানান। দুবে অভিযোগ করেছেন যে, এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই তিনি বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি সন্দীপ ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর তদন্ত করছে সিবিআই। গত ১২ মে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিষার দেহ। তিনি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা ছিলেন এবং এমবিএ পাশ করার পর দিল্লিতে চাকরি করতেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও ছিল বলে দাবি পরিবারের। এই মামলায় সমর্থ সিং এবং তাঁর মা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে পণপ্রথা, শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই সমর্থ সিং এবং গিরিবালা সিংকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছেন। ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক ম্যাপিং, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতও তদন্তে প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে।