বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
ঝাড়গ্রাম থেকে বিধানসভা ভোটে প্রথম বার জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই বিধায়ক। সোমবার গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিধায়ক রাজেশ মাহাতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নয়াগ্রামের বিধায়ক অমিয় কিস্কুও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। গোপীবল্লভপুরের কুলিয়ানা গ্রামের ছেলে দিলীপ ঘোষ আগেই রাজের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ বিকাশ ও কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় এ বার জায়গা করে নিলেন ঝাড়গ্রামের তিন ভূমিপুত্র। খুশির হাওয়া জেলায়।
ছাব্বিশের নির্বাচনে গোপীবল্লভপুরে বিজেপির লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছিলেন কুড়মি সমাজের লড়াকু নেতা রাজেশ মাহাতো। খড়্গপুর এলাকার বেনাপুর হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক রাজেশ দীর্ঘ দিন ধরে কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজনকে এসটি তালিকাভুক্ত করা, কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি–সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। ২০২৩–এ ঝাড়গ্রামের গড়শালবনিতে নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কনভয়ের সঙ্গে থাকা তৎকালীন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার গাড়িতে হামলার অভিযোগে রাজেশ–সহ বেশ কয়েক জন কুড়মি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঘটনার পরেই রাজেশকে খড়্গপুরের বেনাপুর হাইস্কুল থেকে কোচবিহারের সিতাইয়ের চামতা আদর্শ হাইস্কুলে বদলি করা হয়েছিল। যদিও পরে সেই বদলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নির্বাচনের মুখে বিজেপিতে যোগদান করে গোপীবল্লভপুর বিধানসভার প্রার্থী হয়ে তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতোকে ২৬, ৬৭৫ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন রাজেশ। এই সাফল্যের জন্যেই রাজেশকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতির মহলের।
রাজেশকে ঘিরে গোপীবল্লভপুর বিধানসভা এলাকার বহু মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। সাঁকরাইলের গৌতম মাহাতো বলেন, ‘সারা বছরই হাতির উৎপাত রয়েছে আমাদের এই এলাকায়। চাষের কাজ ছেড়ে দিনমজুরি করতে হচ্ছে। হাতির সমস্যা সমাধান হলে আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরে পাব।’ রাজেশ বলেন, ‘আমার বিধানসভা এলাকায় এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। মানুষের বহু প্রত্যাশা রয়েছে। একে একে সব সমস্যার সমাধান করাটাই আমার প্রথম লক্ষ্য। হাতি–মানুষের সংঘাত রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্য দিকে, নয়াগ্রাম থেকে অমিয় কিস্কু তৃণমূলের তিন বারের বিধায়ক পোড়খাওয়া নেতা দুলাল মুর্মুকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারিয়ে দেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই মন্ত্রী হতে পারেন বলে জেলায় চর্চা শুরু হয়েছিল অমিয়কে নিয়ে। এ দিন অমিয় রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অমিয়কে ঘিরে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা রয়েছে নয়াগ্রামের বাসিন্দাদের। বাছুরখোয়াড়ের বাসিন্দা সুভাষ বেরা বলেন, ‘নয়াগ্রামে কর্মসংস্থানের বড্ড অভাব হয়েছে। এখানে যদি কলকারখানা গড়ে ওঠে, তা হলে খুবই ভালো হয়। আশা করি, আমাদের মন্ত্রী এখানে কর্মসংস্থান গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী হবেন।’ অমিয় বলেন, ‘শপথ গ্রহণ হয়েছে, তবে দপ্তর বন্টন হয়নি। তা খুব শিগগিরই হয়ে যাবে।’