ভুল ওষুধ দেওয়ায় এক প্রসূতির গর্ভপাতের অভিযোগ। অভিযোগের তির এলাকার এক ওষুধের দোকানদারের বিরুদ্ধে। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার নীলগঞ্জ বাজার এলাকায়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা ওষুধের দোকানে চড়াও হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আমডাঙা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দোকানের মালিক ব্যোমকেশ বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রসূতির নাম ঝুমা রায়। তিনি নীলগঞ্জের খড়ের মাঠ এলাকার বাসিন্দা। ঝুমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি চিকিৎসককে দেখানোর পরে তাঁর প্রেসক্রিপশন নিয়ে নীলগঞ্জ বাজারের একটি ওষুধের দোকানে যান। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ‘মিপ্রোজেন এসকে ২০০’ ওষুধ লিখেছিলেন। কিন্তু দোকানদার ভুলবশত ঝুমাকে ‘মিসটল এসকে ২০০’ ওষুধ দেন।
এই ওষুধ খাওয়ার পরে দুই দিনের মধ্যেই ঝুমা প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। ঝুমাকে তড়িঘড়ি চাকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। নানা রকম পরীক্ষার পরে জানা যায় ঝুমার গর্ভপাত হয়েছে। ঘটনার পরেই প্রসূতির পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা দলবেঁধে ওই ওষুধের দোকানে গিয়ে চড়াও হন। ঝুমা রায় বলেন, ‘বহু বছরের চেষ্টায় আমি গর্ভধারণ করি। কিন্তু ভুল ওষুধ দেওয়ায় আমার গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে।’
দোকান ভাঙচুরের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আমডাঙা থানার পুলিশ। বেগতিক দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত হন। ঘটনায় আমডাঙা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই ওষুধের দোকানের মালিককে। পুলিশ জানিয়েছে, ওষুধের দোকানের মালিককে জেরা করে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, কী কারণে তিনি অন্য ওষুধ দিয়েছিলেন।