কলকাতা: এ যেন ভুলের পাহাড়। ‘ভুল’ নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল? উত্তর খুঁজছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। শুধু ‘সই’ জাল অভিযোগই নয়। তৃণমূলের চিঠি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠে আসছে সিআইডি তদন্তে। আর তাতেই বেকায়দায় পড়তে পারে তৃণমূল। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভা সই বিতর্কে তৃণমূলের দেওয়া চিঠিতে একাধিক অসঙ্গতি ঘিরে নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে বিতর্ক। সিআইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলে তরফে বিধানসভার অধ্যক্ষকে পাঠানো চিঠির সঙ্গে মিটিং রেজিউলেশন বুকে বিধায়কদের ক্রমিক নম্বরেও রয়েছে বড়সড় অসঙ্গতি।
অসঙ্গতি ধরা পড়েছে সই করার পর তারিখ লেখার ক্ষেত্রেও। সিআইডি সূত্রে খবর, রেজিউলেশন নোট বুক খতিয়ে দেখতে গিয়েই সই জাল ছাড়াও একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে। রেজিউলেশন নোট বুকের শুরুতেই রয়েছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সই, তার পাশে তারিখ নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। যে ভাবে লেখা রয়েছে তা দেখে মনে হচ্ছে ৫ মে লেখা।
ক্রমিক সংখ্যা ভ্যানিশ?
অসঙ্গতি রয়েছে ক্রমিক সংখ্যায়। ক্রমিক সংখ্যা ৫, ১৬ ও ২৬ নেই রেজিউলেশন নোট বুকে। যা এই চিঠির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেই মত তদন্তকারীদের। ফলত এই একাধিক অসঙ্গতির কথা ব্যাখ্যা করে চিঠির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে সিআইডি।
একদিকে ‘সই’ অস্বস্তি ঢাকতে ঋতব্রত-সন্দীপন বহিষ্কার। তারপরেই ওই বহিষ্কৃত তৃণমূলের বিধায়কদের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার জল্পনা, আরও বিধায়কের সঙ্গে থাকার বার্তা ইত্যাদিতে ইতিমধ্যেই বিপাকে প্রাক্তন শাসক দল। এবার নতুন করে সিআইডি তদন্তে উঠে আসা অসঙ্গতি দলের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এরইমধ্যে কর্মীদের রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিষ্ণুপুর তৃণমূল অফিসের আতঙ্ক কাটাতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে করা হল মামলা। অভিযোগ, ৪ মে ফলপ্রকাশের পর ৫ মে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন একাধিক ব্যাক্তি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি অফিস। যদিও মামলায় তৃণমূলের যুক্তি, লিপস অ্যান্ড বাউন্সের নামে ওই সম্পত্তি কেনা হয়। আগামী বুধবার হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলার শুনানি।