১৩ জন বিধায়কের সই জালের অভিযোগ, কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে কী হয়েছিল? বহিষ্কারের পর বোমা ফাটালেন ঋতব্রত
News18 বাংলা | ০২ জুন ২০২৬
তৃণমূল কংগ্রেস বহিষ্কার করার পরই সই জাল কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়কের দাবি, গত ১৯ মে কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে ডাকা বৈঠকে সইয়ের নীচে ৬ মে তারিখ লিখতে বলা হয়েছিল৷
বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের জেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে সোমবার বহিষ্কার করে তৃণমূল৷ কারণ বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য দলের বিধায়কদের সই জাল করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দেন ওই দুই বিধায়ক৷ গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই অভিযোগকারী দুই তৃণমূল বিধায়কের নাম ফাঁস করেন৷ তার পরই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল৷
তৃণমূল বহিষ্কারের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, গত ৬ মে যে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তা আদৌ সত্যি নয়৷ ঋতব্রতর দাবি, সেদিনের বৈঠকে শুধুমাত্র নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সব বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করতে বলা হয়েছিল৷ পরে ১৯ মে অন্য একটি বৈঠকে বিধায়কদের বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার জন্য সই করতে বলা হয়৷ কিন্তু ১৯ তারিখের বদলে সইয়ের নীচে ৬ মে তারিখ লেখার জন্য বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ঋতব্রতর৷
উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘অধ্যক্ষকে অভিযোগ না জানিয়ে কাকে চিঠি দেব? একটা দল ভোটে হেরে গিয়েছে৷ হেরে গিয়ে বলছে আমরা হারিনি, আমরা জিতেছি৷ তাহলে দল যদি হেরে গিয়ে জেতে আর সব জায়গায় জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যাঁরা জিতেছি তাঁরা জিতলাম কী করে?’
৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে কী হয়েছিল তা বলতে গিয়ে ঋতব্রতর দাবি, ‘বলা হল সবাই উঠে দাঁড়ান৷ যিনি নেতা তাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান৷ বৈঠকে সেদিন রেজোলুশন হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো হবে৷ পরিষদীয় দল নিয়ে সেদিন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি৷ ১৯ তারিখের বৈঠকে আবার বলা হল সইয়ের নীচে ৬ তারিখের ডেট দেবেন৷ বলতে পারেন সেদিন কেন প্রতিবাদ করিনি৷ কারণ তৃণমূলে প্রতিবাদ করার সুযোগ খুব কম৷’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নবান্নে জানান, গত ৯ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি লেখেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে৷ সেই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা জানিয়ে চিঠি দেন৷ ১৮ মে বিধানসভার প্রধান সচিব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় বৈঠকের মিনিটস জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন৷ ২০ মে সেই চিঠির জবাব আসে তৃণমূলের পক্ষ থেকে৷ এর পরই ২৭ মে দু জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য ৬ মে তৃণমূলের দলীয় বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি৷ তাঁরা শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য সই করেছিলেন৷ বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়৷ তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভার সচিব হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান৷ এর পর স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশে এবং মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনে মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি৷
এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, তাতে মোট ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ৷ মুখ্যমন্ত্রী গতকাল দাবি করেছেন, অন্তত তিন জন তৃণমূল বিধায়ক সিআইডি তদন্তে স্বীকার করেছেন যে তাঁদের সই সত্যিই জাল করা হয়েছিল৷ যদিও যাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে অন্যতম দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় সই জালের অভিযোগ মানতে চাননি৷