একটি ক্ষেত্রে আমি সিপিএমের প্রশংসা করি, হঠাৎ কেন এমন বললেন মমতা
eTV Bharat | ০২ জুন ২০২৬
কলকাতা, 1 জুন: তিন দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়৷ দল তৈরির 13 বছরের মাথায় বাংলার ক্ষমতা থেকে সিপিএম-কে সরিয়ে নজিরও গড়েন তিনি৷ তার পরবর্তী দেড় দশকে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বেই চলেছে এই রাজ্যের সরকার৷ কিন্তু ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরই মমতার মুখে শোনা গেল সিপিএমের প্রশংসা৷
সোমবার সোশাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিয়ো করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী৷ সেখানেই তাঁর মুখে সিপিএমের প্রশংসা শোনা যায়৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কেন সিপিএমের প্রশংসা করলেন?
আসলে মমতার এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন৷ সেই জয়ের মাস ঘোরার আগেই দল বিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে এদিন বহিষ্কার করে তৃণমূল৷ আর এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মমতার মুখে সিপিএমের প্রশংসা শোনা গিয়েছে৷ ঋতব্রতর অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “আগে তো সিপিএম করত। সেদিন সিপিএম ওকে তাড়িয়ে দিয়ে একদম ঠিক কাজ করেছিল। অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে আমি সিপিএমের প্রশংসা করি।”
উল্লেখ্য, এক সময় সিপিএমে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ 2014 সালে সিপিএম তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়৷ কিন্তু দল বিরোধী কাজের অভিযোগে 2017 সালে তাঁকে সিপিএম বহিষ্কার করে৷ 2020 সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন৷ 2024 সালে তৃণমূলের সাংসদ হন রাজ্যসভায়৷ এবার বিধানসভা ভোটে লড়াই করে জয়ী হন৷
তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোটের পর দলের অন্দরে একাধিক ইস্যুতে তিনি সরব হয়েছিলেন৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ে যে সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই সামনে এনেছেন৷ এর পরই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল৷ সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার কয়েকঘণ্টা পরই মমতা সোশাল মিডিয়ায় লাইভ করে ঋতব্রতর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন৷
বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজনীতির একজন বড় খেলোয়াড়। আমাদের মারাত্মক ভুল হয়েছে ওঁকে টিকিট দেওয়া। ও তো পায়ে এসে পড়েছিল।” অতীতে ঋতব্রতকে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘‘আমরা ওঁকে দু’বার সাংসদ করেছি। অন্য দলের একজন নেতার টিকিট কেটে ওঁকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু এরা যে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেজন্য আমি এদের কোনোদিন ক্ষমা করব না।”
যদিও এই নিয়ে এখনও ঋতব্রতর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ এখন দেখার তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পালটা কী উত্তর দেন!