মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই বারবার শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন আর থাকবেন। আমজনতার সমস্যার কথা শুনতে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে জনতার দরবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্রতি সপ্তাহের সোমবার সল্টলেকে বিজেপি পার্টি অফিসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন আমজনতা। চলতি সপ্তাহে সোমবার শুভেন্দুর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠনের অনুষ্ঠান থাকার দরুণ মঙ্গলে হচ্ছে জনতার দরবার (Janatar Darbar)। আজ সেখানে উপস্থিত রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (Riddhi Bandyopadhyay )। তৃণমূলের জমানায় সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আর সেই অভিযোগের তির তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে।
বদলের বাংলায় বারবার ইন্দ্রনীলকে কাঠগোড়ায় তুলেছেন ঋদ্ধি। এবার অভিযোগ জানাতে সোজা পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তাঁর দাবি, বিদেশে বা অন্য অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ ছিল বলেই জীবিকা নির্বাহে সমস্যা হয়নি। কিন্তু, সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগই পেতেন না। যদিও বা কখনও সুযোগ এসেছে তখন তাঁর থেকে কাটমানি দাবি করা হয়েছে। লবির লোক না হওয়ার জন্য ব্রাত্য থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ঋদ্ধির। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তৎকালীন সরকারের কাছের মানুষরাই শুধু সুযোগ পেয়েছেন, বিস্ফোরক সঙ্গীতশিল্পী।
তবে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে ইন্দ্রনীল সেনের পালটা প্রতিক্রিয়া, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আজ পর্যন্ত টাকা তো দূরঅস্ত একটা মিষ্টিও কারও থেকে খাননি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইন্দ্রনীলের বক্তব্য, যদি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেবে তা মাথা পেতে গ্রহণ করবেন। এখানেই শেষ নয়, হুমকি ফোনের অভিযোগও এনেছেন ঋদ্ধি। এবিষয়ে ইন্দ্রনীলের দাবি, বিগত আট থেকে ন’বছর ঋদ্ধির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগই নেই। এমনকী ফোন নম্বরটুকুও নেই। হুমকি ফোনের নেপথ্য যদি ইন্দ্রনীলের ভূমিকা থাকে তাহলে সেই শাস্তিও তিনি গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানান তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই গায়ক।
মঙ্গলে মুখমন্ত্রীর জনতার দরবারে ঋদ্ধিকে দেখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “চন্দননগরে জঙ্গলরাজ চালিয়েছে। অনেকবার আওয়াজ তোলার পরও কোনও সুরহা হয়নি। ঋদ্ধির মতো একজন শিল্পীকে এখানে আসতে হয়েছে! শিল্পজগৎটাকে কোন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে! উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবেই।”