• পহেলগাম হামলায় হামাস যোগ? পাক জঙ্গি সংগঠনের নেটওয়ার্কের গভীরতার তদন্তে NIA
    এই সময় | ০২ জুন ২০২৬
  • জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের জঙ্গি হামলার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ বার বৈসরনের হামলায় উঠে এল গাজ়ার সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের নামও। নতুন একটি আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে প্যালেস্টাইনের সংগঠন Hamas-এর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না।

    গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাসে হামাস (Hamas) এবং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT), জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM) ও দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, পহেলগামে হামলার ধরন, পরিকল্পনা এবং হামলার পরে প্রচার কৌশলের মধ্যে Hamas-এর হামলার ধাঁচের মিল পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহার, বহুস্তরীয় যোগাযোগব্যবস্থা, এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সীমান্তের ওপার থেকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ অপারেশন— এই সমস্ত দিকই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

    গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এই হামলার পর থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের দিকে আঙুল তোলে। পরে NIA আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তে উঠে আসে, হামলাকারীদের ডিজিটাল ট্রেল পাকিস্তানের মুজফফরাবাদ ও করাচি পর্যন্ত ছিল।

    তদন্তকারীদের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা পাকিস্তান থেকে নির্দেশ পাচ্ছিল এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের ওয়্যারলেস সেট ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই ডিভাইসগুলি সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করতে পারে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ বাড়ছে। সেই কারণেই Hamas-যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

    গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, হামাস নেতাদের পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) যাতায়াত এবং পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে বৈঠকের ইনপুট আগেই পেয়েছিল ভারতীয় সংস্থাগুলি। ইজরায়েলের তরফ থেকেও অতীতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে হামাস ও পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত সমন্বয় তৈরি হচ্ছে।

    NIA-র তদন্তে দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্টের (TRF) সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও সামনে এসেছে। এই সংগঠনটিকে লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবে দেখা হয়। পহেলগামে হামলার পরে TRF প্রথমে হামলার দায় স্বীকার করেছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে আন্তর্জাতিক স্তরেও TRF-কে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, শুধু কাশ্মীর নয়, ভারতের বিভিন্ন শহরে হামলার জন্য নতুন ধরনের মডিউল তৈরি করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে NIA একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান-সংযুক্ত জঙ্গি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং IED ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা চলছিল।

    এ ছাড়াও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, হামাস-এর প্রচার ও ‘লোন উলফ’ র‍্যাডিক্যালাইজেশনের কৌশল পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি অনুসরণ করছে কি না। সোশ্যাল মিডিয়া, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করে যুবকদের প্রভাবিত করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    NIA এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে হামাসের যোগ নিশ্চিত না করলেও, তদন্তকারীরা এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। গোয়েন্দা মহলের মতে, যদি Hamas এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ মেলে, তা হলে তা ভারতের নিরাপত্তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)