একাধিক অভিযোগে বিদ্ধ ছিলেন। বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো জাহিদুল হক বৈদ্য নামে তৃণমূলের সেই পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ। মঙ্গলবার সকালে বাদুড়িয়ার পিঙ্গলেশ্বর গ্রামে তাঁর নিজের বাড়ির ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাপে ছিলেন জাহিদুল। যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারের তরফে ১২টি ব্যাটারিচালিত ময়লাবাহী গাড়ি দেওয়া হলে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ির হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে গত ৩১ মে এলাকার বাসিন্দারা জাহিদুলের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় পাওয়া ব্যাটারি চালিত ময়লার গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি বিপুল ঋণের বোঝাও ছিল তাঁর উপরে।
এ দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা সকালে তাঁকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে রুদ্রপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন জাহিদুল। বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক বুরহানুল মুকাদ্দিন লিটন বলেন, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশনের গাড়ি বিডিও অফিসে হওয়া রেজ়োলিউশন অনুযায়ী, ওর বাড়িতেই রাখার কথা ছিল। সেটাকে কেন্দ্র করে ওর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। তাতে ও অসম্মানিত হয়। দীর্ঘ দিন মান সম্মান নিয়ে কাজ করেছে ও। এই অসম্মান সহ্য করতে পারল না।’ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।