বহিষ্কারের পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিলেন আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও। মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পরে এক অভিযোগ নিয়ে সরব হন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, গোটা দলটাই হাইজ্যাক করেছে একটি সংস্থা (আইপ্য়াক)। প্রথম দিন থেকে দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
সোমবারই দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। এর পরেই দলের বিরুদ্ধে একের পরে এক বোমা ফাটিয়ে চলেছেন তাঁরা।
এ দিন অভিষেককে কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, ‘২৬ দিন পরে বেরিয়ে গণপিটুনি হোক বা চোরপিটুনি, যা-ই খেলেন, তার পরে বললেন জনগণ নিরাপত্তা দেবে। জনগণ যাঁকে নিরাপত্তা দেবে, তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাইতে হচ্ছে কেন? আমাকে তো ‘চোর, চোর‘ স্লোগান শুনতে হচ্ছে না।’
ঋতব্রতর অভিযোগ, উলুবেড়িয়া পুরসভার দুর্নীতির আখড়া। এ নিয়ে আইপ্যাকের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস ‘দুর্নীতির শিরোমণি’, সে খবর তাঁর কাছে এসেছে বলেও জানান। ঋতব্রতর কথায়, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, অভয় দাসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। পুলক রায়কে নিয়ে যেন কিছু না বলি। সরকারকে অনুরোধ করব, বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে। একটা বড় নেক্সাস চলত। কার বরাভয়ে এ সব চলত, তদন্ত দরকার। গোটা পার্টি, তাদের গোটা সরকার তো হাইজ্যাকড।’
এ দিকে ঋতব্রতর বিদ্রোহের পরেই শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের তরী টলমল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নিয়ে নানা জল্পনা বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে। ঋতব্রত কি তবে দলে ভারী হচ্ছেন? এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য বলেন, ‘আমি যৌথ ভাবে আমার আর সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।’
তবে তাপস রায় এ দিন বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘তৃণমূল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। শোচনীয় অবস্থা। দু’টো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। আসলে এটা অনিবার্য ছিল। এটা ঘটবেই। ’