আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি, বারবার অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্রে বিজেপি যেভাবে দল ভাঙিয়েছে, সেই চেষ্টা হবে বাংলাতেও। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বাংলার তৃণমূলের উপর মহারাষ্ট্রের এনসিপি-শিবসেনার ছায়া দেখছেন অনেকেই। তার একমাত্র কারণ তৃণমূলেরই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি। জল্পনা শুরু হয়েছে, অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে এবার নতুন তৃণমূল খুলতে পারেন ঋতব্রত! আর তারপর থেকেই তীব্র হচ্ছে গুঞ্জন। এই পরিস্থিতিতে ফেসবুকে মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।
কী লিখেছেন তাপস রায়? তাঁর প্রোফাইল থেকে লেখা হয়েছে, ''তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত খেলা হবে।'' (বানান অপরিবর্তীত)। তাপস রায়ের সেই পোস্টের পরই তীব্র হয় জল্পনা।
জল্পনার কারণ খুব স্পষ্ট। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। অভিষেক ব্যানার্জির নামের চিঠির ভিত্তিতে জানানো হয়েছিল, তৃণমূলের বিধায়করা সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক করেছেন, বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই ঠিক করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা হিসেবে। সমস্যার সূত্রপাত সেখানেই। বিধায়কদের নাম সই করা যে রেজিলিউশন জমা দিয়েছিল তৃণমূল, জল্পনা, তাতে অনেক বিধায়কের নাম নাকি সই জাল! ইতিমধ্যে 'সই কার?' জানতে একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতেও সিআইডি গিয়েছিল। সূত্রের খবর, জাল-সই কাণ্ডে সিট গঠন করেছে রাজ্য।
এই পরিস্থিতিতে জোর কানাঘুষো, তৃণমূলের টালমাটাল পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে আমরা-ওরা বিভাজন। এদিক-ওদিক কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের ৮০ জয়ী বিধায়কের মধ্যে একটা বড় অংশ নাকি মানছেন না, বিরোধী দলনেতারর নাম বাছাই বিষয়টিকে। রবিবার আরও স্পষ্ট হয়ে যায় বিষয়টি, যখন মমতার ডাকা বৈঠকে ৮০ বিধায়কের মধ্যে, উপস্থিত হয়েছিলেন মাত্র ২০জন।
অন্যদিকে পরাজিত বহু নেতার মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোজা অভিষেকের বিরুদ্ধে, কেউ আঙুল তুলেছেন ক্যামাক স্ট্রিটের দিকে। কেউ বলছেন, অভিষেক যেদিন দাদা থেকে বস হলেন, সেদিনই নাকি তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পড়ে গিয়েছিল। বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েকবছর ধরে 'কালীঘাট বনাম ক্যামাকস্ট্রিট', 'নবীন বনাম প্রবীণ' ফাটল শোনা গিয়েছে বহুবার। এই পরিস্থিতিতে, 'আমরা আসল তৃণমূল' স্লোগান তুলে বিধায়কদের বড় অংশ নাকি মমতা-অভিষেকের বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই আবার বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের সময়কাল এবং মানস ভুঁইয়ার বিধানসভার পদ-প্রাপ্তির বিষয়টিও তুলে ধরছেন।
এই পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বিরোধী দল তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়কের বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের নামের তালিকা তৈরি হয়েছে। শীঘ্রই জমা দেওয়া হবে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে। ইতিমধ্যেই ৫০ জন স্বাক্ষর করে ফেলেছেন বলেই সূত্রের খবর। সূত্রের খবর, এই ৫০ জনের দলনেতা হতে পারেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত ব্যানার্জি। সেই জল্পনায় আরও হাওয়া লাগল তাপস রায়ের পোস্টের পর।