মাথায় 'বল' ওঠা সেই মূর্তির বিদায়, যুবভারতীর সামনে এবার শুধুই ইস্টবেঙ্গল VS মোহনবাগান
আজ তক | ০২ জুন ২০২৬
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে থাকা বিতর্কিত ও অদ্ভুতদর্শন মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল, এবার সেখানে কী বসানো হবে? নতুন সরকারের ক্রীড়া দফতর অবশেষে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক যুবভারতীর সামনে থাকা মূর্তিটি সরানোর উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াপ্রেমী, প্রাক্তন ফুটবলার এবং বিভিন্ন মহল থেকে ওই মূর্তি অপসারণের দাবি উঠছিল। সেই দাবি মেনেই দ্রুত পদক্ষেপ করে ক্রীড়া দফতর। ইতিমধ্যেই যুবভারতীর সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই মূর্তি।
এরপরই শুরু হয় নতুন মূর্তি নিয়ে আলোচনা। প্রথমদিকে প্রস্তাব ওঠে কিংবদন্তি ফুটবলার পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা চুনী গোস্বামীর মতো মহান ফুটবল ব্যক্তিত্বদের মূর্তি বসানোর। তবে ক্রীড়া দফতরের কর্তারা এবং ক্রীড়া মহলের প্রতিনিধিদের আলোচনায় উঠে আসে অন্য যুক্তি। বাংলার ফুটবল ইতিহাসে বহু কিংবদন্তি নাম রয়েছে। নির্দিষ্ট একজন বা দু’জনকে বেছে নিলে অন্যদের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, যুবভারতীর সামনে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির মূর্তি বসানো হবে না। পরিবর্তে বসানো হবে দুই ফুটবলারের প্রতীকী মূর্তি। এক জনের গায়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি এবং অন্য জনের গায়ে মোহনবাগানের জার্সি। ক্রীড়া দফতরের মতে, এই দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক দ্বৈরথই যুবভারতীর প্রকৃত পরিচয় ও আবেগকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে লিওনেল মেসির মূর্তিটি লেকটাউন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটি এবার স্থানান্তর করা হবে ইকো পার্কে। ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য সেখানে নতুন আকর্ষণ তৈরি হতে চলেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুবভারতীর সামনে ফুটবল ঐতিহ্য, আবেগ এবং কলকাতার চিরন্তন ক্লাব-সংস্কৃতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কোনও একক ব্যক্তিকে নয়।