কলেজ স্ট্রিটেও বুলডোজার চলবে নাকি? উদ্বেগের মধ্যে বার্তা দিল পুরসভা
আজ তক | ০২ জুন ২০২৬
কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বহু বই বিক্রেতা। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁদের মৌখিকভাবে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদের বিষয়ে পুরসভার তরফে কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান কফি হাউসের পাশের বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে দীর্ঘদিন ধরে বইয়ের দোকান চালিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন পুরসভার আধিকারিক এসে তাঁদের ফুটপাত খালি করার কথা বলেছেন।
বই বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, কলেজ স্ট্রিট শুধু একটি বাজার নয়, এটি একটি ঐতিহ্য। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পুরনো বইয়ের বাজার এবং ভারতের বৃহত্তম বইপাড়া হিসেবে এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। হঠাৎ করে সরে যেতে বলা হলে অসংখ্য মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে।
তাঁর মতো আরও অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, তাঁরা কয়েক দশক ধরে একই জায়গায় ব্যবসা করে আসছেন। অনেকের দোকানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক কর্মচারীর জীবিকা। তাঁদের আশঙ্কা, উচ্ছেদ হলে শুধু ব্যবসাই নয়, বহু পরিবারের রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।
এক বিক্রেতা জানালেন, বই বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দরকার। এগুলো এমন পণ্য নয়, যা ছোট পরিসরে যেকোনও জায়গা থেকে বিক্রি করা যায়। পাঠকদের বই খুঁজে পাওয়ার সুবিধার জন্য সেগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে রাখতে হয়।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে। তিনি জানিয়েছেন, কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করার কোনও পরিকল্পনা পুরসভার নেই। কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনও ব্যবসায়ী উচ্ছেদ সংক্রান্ত কোনও নোটিশ পেয়ে থাকেন, তাহলে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
তবু বইপাড়ায় উদ্বেগ কাটছে না। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। হাওড়া স্টেশন-সহ একাধিক জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে দোকানপাট ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতেই কলেজ স্ট্রিটের বই ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা আরও বেড়েছে।