• সেই 'বাংলা কংগ্রেস' থেকে শুরু, বঙ্গ রাজনীতিতে দল ভাঙার কত অতীত?
    আজ তক | ০২ জুন ২০২৬
  • ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি? রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল তৈরি হতে পারে। সেই দলের নেতৃত্ব নাকি দেবেন বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঋতব্রত, যিনি একদা পশ্চিমবঙ্গে বামেদের অন্যতম পোস্টার বয় ছিলেন। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠবৃত্তের নেতা ছিলেন। 

    যে তৃণমূল কংগ্রেস একদা কংগ্রেস ভেঙেই তৈরি হয়েছিল, সেই তৃণমূল কংগ্রেসও এবার কি ভেঙে যাওয়ার পথে? যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, 'আমি বড় খেলোয়াড়। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙা যাবে না। যারা রোজ গিয়ে বিজেপিতে মিটিং করছে। বিজেপির কথামতো সবাইকে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অপরাধটা কী? তিনি তাঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন। সবার কী কেবল বাবা-মা এমপি হবে, তাঁর ছেলেমেয়েরাই টিকিট পাবে? সেটা তো হতে পারে না।'
     কংগ্রেস ভেঙে বাংলা কংগ্রেস

    ফিরে দেখা যাক পশ্চিমবঙ্গে দল ভাঙার ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক দল তৈরি হয়েছে বাংলায়, পরে তা ভেঙেও গিয়েছে। ইতিহাসের পাতায় ফুটনোট হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই আসা যাক বাংলা কংগ্রেসের প্রসঙ্গে। ৬০-এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ভেঙে যায়। কংগ্রেসে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয় বাংলা কংগ্রেস। বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে জোট গড়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার তৈরি করেছিল সেই বাংলা কংগ্রেস। ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের যুক্তফ্রন্ট সরকারে বাংলা কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুনরায় সেই দল কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়।

    বাংলা কংগ্রেস ভেঙে 'বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস'

    অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা কংগ্রেস ভেঙেও তৈরি হয় আরও একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। ১৯৭১ সালে বাংলা কংগ্রেসের অন্যতম নেতা সুকুমার রায় তৈরি করেন বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস। এই দলটি বর্তমানে বামফ্রন্টেরই একটি শরিক। বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা নির্মলেন্দু ভট্টাচার্য, গৌরাঙ্গ সামন্ত, আশিস চৌধুরী, সুনীল চৌধুরী, সুব্রত রায় প্রমুখ। গৌরাঙ্গ সামন্ত সবং থেকে দুবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন । অন্যান্য বিধায়ক ছিলেন মাখন লাল বাঙাল, তুষার লায়া। উমেশ চৌধুরী এবং রীতা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। 

    তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম

    এরপর ১৯৯৮ সালে আসা যাক। কংগ্রেসের দাপুটে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে গড়লেন নতুন রাজনৈতিক দল, তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের একাধিক নেতা যোগ দিলেন মমতার নেতৃত্বাধীন সেই দলে। তৃণমূল কংগ্রেস দলটি প্রথম থেকেই মমতা-ময়। পরে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগ দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। তৈরি হওয়ার পরেই ২০০০ সালে কলকাতা পুরসভায় ক্ষমতায় আসে মমতার দল। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ৬০টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একক ভাবে লড়ে ৩০টি আসনে জেতে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ে ২০টি আসনে জেতে। এই তৃণমূল কংগ্রেসই ২০১১ সালে ৪৩ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে। 

    এবার কি তৃণমূল কংগ্রেসও ভেঙে যাচ্ছে?

    ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তীব্র বিদ্রোহ তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। জোর চর্চা চলছে, তৃণমূল কংগ্রেসও ভেঙে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই দলবিরোধী কাজের জন্য দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। আলোচনার কেন্দ্রে আপাতত ঋতব্রতই। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী বিধায়করা ঋতব্রতর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার আলোচনা করছে। গোপনে মিটিংও সেরেছেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা। দলের অন্দরে খবর, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক নাকি বিক্ষুব্ধ। মোদ্দা বিষয়, অভিষেক বিরোধী বিধায়করা একসঙ্গে হয়ে একটি নতুন দল গড়ার চেষ্টা করছে বলে শোনা যাচ্ছে।  তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যেই ঋতব্রতকে নিশানা করেছেন। বলেন, 'যে দল জেতাল, বিধানসভায় পাঠাল, যে নেত্রীর দেওয়া টিকিটে জিতলেন, প্রথম দিনের মিটিংয়ের পর এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা, এটা মেনে নেবে না মানুষ।  আমাদের দলে নিশ্চয়ই সমালোচনার যোগ্য বিষয় রয়েছে। সিপিএম পর্ব মেটার পর ঋতব্রতকে তো তৃণমূল বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল, তাঁর একবার মনে হল না! সব সময়ে ক্ষমতার কাছে থাকতে হবে?'
     
  • Link to this news (আজ তক)