• কলকাতা পুলিশের ভাবমূর্তি ফেরাতে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ জুন ২০২৬
  • কলকাতা পুলিশ ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে কলকাতা পুলিশ নিয়ে একাধিক বিতর্ক এবং নেতিবাচক ঘটনা সামনে এসেছে। নতুন প্রশাসন একাধিক সংস্কারমূল পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বাহিনীর পূর্বের গৌরব ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

    গত ১৫ বছর ধরে কলকাতা পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে একাধিক সমালোচনা হয়েছে। আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ওই মালার নথি পুনরায় খোলার নির্দেশ দেয় এবং তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিনজন আইপিএস কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়। ২০২৩ সালে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বাড়িতে আপত্তিকর পোস্টার লাগানোর ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাদা পোশাকের পুলিশ করার।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরানোর অংশ হিসেবে কলকাতা পুলিশে ইউনিফর্ম ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পাঁচটি বিশেষ বিভাগ ছাড়া সব পুলিশ সদস্যকে এখন থেকে ডিউটির সময় ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক।  এই পাঁচটি বিভাগ হল, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগ। এই বিভাগগুলির কাজের স্বার্থে সাদা পোশাকে কাজ করার অনুমতি থাকবে। অন্য বিভাগকে সাদা পোশাকে কাজ করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

    কলকাতা পুলিশ একসময় বিশ্বের প্রথম ফরেনসিক তদন্ত ব্যবস্থা এবং ফিঙ্গারপ্রন্ট ব্যুরো গড়ে তোলা জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। শক্তিশালী গোয়েন্দা কাঠামোর কারণে বাহিনীকে ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড’ বলা হত। জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে দুই সিনিয়র আইপিএস কর্মকর্তা দময়ন্তী সেন এবং কে জয়রামনকে আলাদা কমিশনের সদস্য সচিব করা হয়েছে। এই কমিশনগুলি পূর্ববর্তী সরকারের সময় ঘটে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনাগুলির তদন্ত করবে।

    মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি প্রশাসনির বৈঠকে পুলিশের আধুনিকীকরণ, বিশেষ ইউনিট গঠন এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। তিনি জানান, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ২০ হাজার নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ এটি আগের সরকারের সময়ে প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হত। এর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। যিনি বর্তমানে ইডির হেফাজতে রয়েছেন। সরকারের দাবি, এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকাতা পুলিশের স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)