যাবতীয় জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গেল বিজেপির সঙ্গে আন্নামলাইয়ের বিচ্ছেদ। দলত্যাগ ও নতুন দল গঠনের জল্পনার মাঝে মঙ্গলবার সকালে বিজেপির সর্বভারতী সভাপতি নীতীন নবীনের ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএন সন্তোষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আন্নামলাই। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই তামিল বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জানিয়ে দিয়েছেন সৌহার্দ্যপূর্ণ বিচ্ছেদ চান তিনি। দল অবশ্য আন্নামলাইকে ফেরানোর যাবতীয় চেষ্টা জারি রেখেছে।
নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির সঙ্গে ঠোকাঠুকি চলছিল আন্নামলাইয়ের। সিবিএসই-র শিক্ষানীতিতে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের ব্যাপক বিরোধীতা করতে দেখা যায় তাঁকে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগে এআইডিএমকে-র সঙ্গে বিজেপির জোটের বিরোধিতায় সরব হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাইনার নাগেন্দ্রনকে। এমনকী নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিটও দেয়নি। এই ঘটনায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিলে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্নামলাই জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও গত কয়েকমাসে একাধিকবার বিজেপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান বিজেপির এই প্রাক্তন সভাপতি। এই পরিস্থিতিতেই শুরু হয়েছে আন্নামলাইয়ের বিজেপি ত্যাগের জল্পনা। আন্নামলাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর বিজেপিতে কোনও ভবিষ্যৎ দেখছেন না তিনি। যার জেরেই এই পদক্ষেপ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, আন্নামলাইয়ের মান ভাঙাতে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল গেরুয়া শিবির তবে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন আন্নামলাই। আপাতত সেই বৈঠকই শেষ আশা। তবে আন্নামলাই যতদূর এগিয়ে গিয়েছেন তাতে তাঁকে ফেরানো মুস্কিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোশাল মিডিয়ায় আন্নামলাইয়ের সমর্থকরাও সেই জল্পনায় ইন্ধন দিতে শুরু করেছে। এমনকী সোশাল মিডিয়ায় আন্নামলাইয়ের সম্ভাব্য দলের নাম ও প্রতীক সামনে এনেছেন বহু সমর্থক। তবে বিতর্ক চরম আকার নিলেও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি চর্চিত আন্নামলাই। উল্লেখ্য, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তামিলনাডুতে বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন আন্নামলাই। তবে দ্রাবিড়ভূমে বিশেষ সাফল্য আসেনি গেরুয়া শিবিরের। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর আসনে আন্নামলাই নিজে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে হারেন।