সন্ত্রাসবাদকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে ভয়ংকর ফাঁদ পেতেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনীর চোখে ধুলো দিতে জঙ্গিদের দেশের রাজনীতিতে ঢুকে পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন একাধিক ঘটনাও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির হাত থেকে বাঁচতে এবং সন্ত্রাসী ঘটনার তদন্ত এড়াতে দেশের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলিতে ছদ্মবেশে ঢুকছে আইএসআইয়ের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কাররা (ওজিডব্লু)।
তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে এমন একাধিক ঘটনা নজরে এসেছে। যেখানে আইএসআই-এর একাধিক ওজিডব্লু ধরা পড়ার পর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ। প্রাক্তন ডিজি এসপি বৈদ বলেন, পুলিশি তল্লাশির হাত থেকে বাঁচতে ধৃতরা রাজনৈতিক দলের মেম্বাশিপ কার্ড ব্যবহার করছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে কাশ্মীরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তালিব হুসেন নামে এক লস্কর জঙ্গিকে। জানা যায়, এই জঙ্গি জম্মুতে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সোশাল মিডিয়া ইন চার্জ হিসেবে কাজ করত। জঙ্গির কাছ থেকে ২টি রাইফেল-সহ বহু গ্রেনেড ও নানান অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, জাল ভোটার ও আধার কার্ডের মাধ্যমে এই জঙ্গিরা প্রথমে এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসে। এরপর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। তালিবও একইভাবে বিজেপির সদস্যপদ নেয়, এরপর ধীরে ধীরে দলের অভ্যন্তরে ঢুকে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে দলে নিজের জায়গা তৈরি করে। পাঞ্জাবে সম্প্রতি লস্করের যে জঙ্গি মডিউল ধরা পড়েছিল সেখানেও দেখা গিয়েছে, পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে গত ১৫ বছর ধরে বাস করছিল জঙ্গিরা।
উল্লেখ্য, ৯০-এর দশকে কাশ্মীরের জঙ্গিরা ঠিক একই নীতি নিয়েছিল। পুলিশি পদক্ষেপ এড়াতে এরা ব্যবহার করত ভুয়ো ভোটারকার্ড। পরবর্তী সময়ে এই জঙ্গিরা ভুয়ো আধারকার্ডও তৈরি করে। এখন দেশে রাজনীতির বাড়বাড়ন্তে আধার, ভোটারের চেয়ে জঙ্গিদের কাছে অনেকবেশি কার্যকরী হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ। এর ফলে সহজে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া ও তদন্ত এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে জঙ্গিরা। যার জেরে আইএসআই-এর নির্দেশে দেশে সন্ত্রাস চালাতে রাজনৈতিক দলে সদস্যপদ হাতাচ্ছে জঙ্গিরা।