• আতঙ্কের নাম ডিম! জনরোষ ঠেকাতে হেলমেট পরিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে আদালতে তুলল পুলিশ
    প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
  • ডিম-জুতো থেকে মাথা বাঁচাতে প্রাক্তন বিধায়কের মাথায় হেলমেট! সদ্য সোনারপুরে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। এরপরই আজ, মঙ্গলবার আদালতে তোলার সময় বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের (Khokan Das) মাথায় পরানো হল হেলমেট। মানুষের জনরোষ যেভাবে বাড়ছে, সেদিকে নজর রেখেই পুলিশ যে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ, তা এহেন পদক্ষেপেই স্পষ্ট।

    বর্ধমানের দাপুটে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন খোকন দাস। পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁর প্রভাব এবং দাপট দুটোই দেখেছে এলাকার মানুষ। গত কয়েকদিন আগেই উত্তরপ্রদেশ থেকে বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে এদিন বর্ধমানে নিয়ে আসা হয় ‘দাপুটে’ খোকনকে। এর আগে তাঁর গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসার পরেই স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে উচ্ছ্বাস নজরে এসেছিল। ‘খোকন চোর’ গান বাজিয়ে চলে নাচগান, বিলি করা হয় লাড্ডু, আবির খেলাও হয়।

    এরই মধ্যে এদিন আদালতে তোলা হয় প্রাক্তন বিধায়ককে। কোনওভাবে যাতে ক্ষোভের আগুন তাঁর উপর না এসে পড়ে, সেজন্য আগেভাগেই এদিন সতর্ক ছিল পুলিশ। একেবারে কড়া নিরাপত্তায় খোকন দাসকে থানা থেকে বের করা হয়। এরপরে আদালতের সামনে গাড়ি পৌঁছতেই দেখা যায়, তাঁকে একেবারে হেলমেট মাথায় পড়িয়ে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হেলমেটের আড়ালে মুখ ঢেকেই আদালতে ঢুকে যান তৃণমূল নেতা।

    বলে রাখা প্রয়োজন, বাম আমলে বর্ধমান পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর নির্বাচিত হন খোকন দাস। ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেবার পুরপ্রধান হয়েছিলেন তৃণমূলের স্বরূপ দত্ত। কিন্তু খোকন দাসই পুরসভার ‘ডিফ্যাক্টো’ চেয়ারম্যান হয়ে ওঠেন। প্রতিপত্তি বাড়ে ক্রমশ। বেআইনি বালি কারবার, সুদের কারবার, ঠিকাদারি থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণের মতো কাজে সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বলিউড শিল্পীদের নিয়ে প্রতি বছর কাঞ্চন উৎসবে কয়েক কোটি টাকা খরচ করতেন। ২০২১ সালে বর্ধমান শহরে ভোটবর্তী হিংসায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হন, বাড়ি ভাঙচুর হয়, হামলার শিকার হন।

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খোকনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল। সিবিআই তদন্ত হলেও এতদিন গ্রেপ্তার হননি খোকন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ফের অভিযোগ জমা পড়ে খোকনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। এরপরেই গ্রেপ্তারির শঙ্কায় ভিনরাজ্যে পালিয়ে যান খোকন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)