• সরকারের অন্ধ বিরোধিতা নয়! কলকাতায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি তৃণমূল কাউন্সিলরদের
    প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
  • কলকাতার বহু ওয়ার্ডে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম বিলি করছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। পুরসভার ওয়ার্ড অফিসের পাশাপাশি বহু ক্লাব, কলোনি ও বসতি কমিটির অফিস, বরো অফিস ও পুজো কমিটির চত্বরেও ফর্ম বিলিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জোড়াফুলের পুরপ্রতিনিধিরা। কলকাতার অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলরদের বক্তব্য, “বিধানসভা ভোটে বাংলার মানুষের রায় মেনে নিয়ে ক্ষমতায় আসা রাজ্য সরকারের অন্ধ বিরোধিতা না করে সামগ্রিক উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া শিষ্টাচার ও শ্রেয়। আর সর্বোপরি সরকারি বিজ্ঞপ্তি মেনে ভাতার ৩০০০ টাকা ওয়ার্ডের যোগ্য মহিলাদের পৌঁছে দেওয়া পুরপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।”

    বিরোধী দলের বিধায়ক ও পুরপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও ইতিমধ্যে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার একাধিক প্রশাসনিক এবং উন্নয়নমূলক বৈঠকে ডাক পাওয়ায় অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলররাই খুশি। একইসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূল নেতৃত্বের উপর দলীয় কর্মীদের হামলা নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন তাকেও কিছু তৃণমূলের বরো চেয়ারম্যান কাউন্সিলররা সাধুবাদ দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা ফর্ম’ বিলিতে নেমে পড়েছেন। কলকাতায় তৃণমূলের কাউন্সিলর ১৩৭ জন হলেও প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ জন এই ফর্মবিলিতে সাহায্য করছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর। যদিও বিজেপির তরফে কটাক্ষ, জনরোষ থেকে বাঁচতে একাধিক তৃণমূলনেতা এই ফর্ম বিলিকে ঢাল করতে চাইছেন। তাই সেই সমস্ত ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মীরাই ক্লাব ও বিশেষ ক্যাম্প করে ও অন্নপূর্ণার ফর্ম তুলে দিচ্ছেন। পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডের তৎপরতায় এদিনও ১৪৪টি ওয়ার্ডেই ফর্ম বিলি হয়েছে।

    কলকাতার যে সমস্ত ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড অফিস’ নেই, সেখানে পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এই ফর্ম বিলি হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে যাঁরা ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির করেছেন পুরসভার সোশাল সেক্টরের সেই সমস্ত অফিসার ও কর্মীরাই এবার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের সাহায্য নিয়ে মহিলাদের জন্য তিন হাজার টাকার অন্নপূর্ণা ফর্ম বিলিতে নেমে পড়েছেন। ভবানীপুরে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে তো স্বয়ং মেয়র পারিষদ অসীম বসু নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা মেনে অন্নপূর্ণার ফর্ম নিতে আসা মহিলাদের ‘গাইড’ করছেন। বলছেন, “বৃহত্তর পরিবারের স্বার্থে সরকারি পরিষেবা ও ভাতা পেতে ওয়ার্ডের নাগরিকদের সাহায্য করছি, এটা কাউন্সিলর হিসাবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য।” উত্তরের সিঁথি, মানিকতলা, শ্যামপুকুর, বউবাজার থেকে দক্ষিণের গড়িয়াহাট, বেহালা, যাদবপুর, গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি বহু তৃণমূলের কাউন্সিলর ও তাঁদের নেটওয়ার্কেই সোমবারও জোরকদমে রাজ্য সরকারের এই সামাজিক প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ চলছে। মূলত কাউন্সিলর উদ্যোগ নেওয়ায় কলকাতার বিভিন্ন বসতিতে বিজেপি কর্মীদের পাশাপাশি তৃণমূলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদেরও ফর্ম পূরণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা গিয়েছে। যেখানে তৃণমূলের কাউন্সিলররা এখনও অন্নপূর্ণা ফর্ম বিলিতে এগিয়ে আসেননি সেখানে পুরসভার আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন পুরকর্তৃপক্ষ। এদিন বিভিন্ন বরো অফিসে স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেকে পাঠিয়ে ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করিয়ে দেওয়া নিয়েও বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, স্বল্প লেখাপড়া জানা বস্তিবাসী মহিলাদের সাহায্য করতে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশকে দিয়ে ফর্ম পূরণ করানো হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)