মমতার ধর্নায় ৭৮-এ হাজির মাত্র ৬ বিধায়ক! তৃণমূলের করুণ অবস্থায় শুভেন্দুর খোঁচা, ‘ফলতার মতো’
প্রতিদিন | ০২ জুন ২০২৬
খাতায় কলমে এখন তৃণমূলের হাতে ৭৮ বিধায়ক। কিন্তু সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায় দেখে মিলল না ১০ জন বিধায়কেরও। মেরেকেটে দেখা মিলল ৬ জনের। ছিলেন ৫ সাংসদ। আজ, মঙ্গলবার শক্তি পরীক্ষা করতেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেখা গেল, নির্বাচনের মতোই এক্ষেত্রেও ডাহা ফেল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে এখনও আত্মবিশ্বাসী মমতা। বললেন, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে”। অর্থাৎ বেঁচে থাকলে বিজেপিকে তিনি বাংলা ছাড়া করবেনই। তারকেশ্বর থেকে এনিয়ে তৃণমূলকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “এত দূরাবস্থা! দলটা ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।”
নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেছেন, তিনি হারেননি। তাঁকে হারানো হয়েছে। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও করেছিলেন তিনি। এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে ছিল দলের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু কয়েকদিন পেরতেই দেখা গিয়েছে, তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন। দলের দীর্ঘদিনের নেতা, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। গত রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দেখা মেলেনি ২০ জনেরও। যার জেরে বাতিল করা হয় বৈঠক।
তারপর মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচি যে ঘুরপথে শক্তি পরীক্ষার কৌশল ছিল, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এখানেও দেখা গেল ডাহা ফেল নেত্রী! মেরেকেটে শামিল হলেন ৬ বিধায়ক ও পাঁচ সাংসদ। বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব, শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। গত কয়েকবছরে মমতা-অভিষেক বারবার তারুণ্যে জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই মতো করে প্রার্থী করা হয়েছিল অনেক তরুণ মুখকেও। কিন্তু এদিন দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন সেই গুটি কয়েক আদি তৃণমূলের নেতা। সাংসদদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ সাংসদ বিধায়ক মিলিয়ে ১৫ জনকেও পাশে পেলেন না মমতা। তবে এখনও আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা পড়েনি নেত্রীর। এদিন ওয়াই চ্যানেল থেকে তিনি বলেন, আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি। “বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। তবে বিজেপির যাঁরা এখন অনেক কথা বলেছেন, তাঁদের পাশেও ছিলাম। জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে।” এদিন দলের ভাঙনের জন্য বিজেপিকেই বিঁধেছেন মমতা। বলেন, “ওরা বিধায়ক, সাংসদ ও বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
এদিন তারকেশ্বরে মমতার ধর্না নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খোঁচা দিয়ে বলেন, “এত দূরবস্থা!
শুনলাম ৩ জন এমপি, ৬ টা বিধায়ক গিয়েছে। দলটার অবস্থা ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।” সংবাদমাধ্যমের তরফে বলা হয়, শোনা যাচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কদের বারবার ফোন করেও লাভ হয়নি। একথা শুনেই হাসির ছলে শুভেন্দু বলেন, “উনি তো শুনলাম অসুস্থ! স্যালাইন নিচ্ছে। অসুস্থ হলে এত ফোন করা যায় নাকি!”