মা ও বাচ্চাদের জন্য আইসিডিএস-এর খাবারের গুণমান কোনও ভাবেই যাতে খারাপ না হয়, পরীক্ষা জেলাশাসকের
News18 বাংলা | ০২ জুন ২০২৬
বিভিন্ন সময়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে দেওয়া রান্না করার খিচুড়ি নিয়ে নানা রকম অভিযোগ ওঠে। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবারদাবার রান্না করা। আবার কোথাও রান্না করা খিচুড়িতে ব্যাংক টিকটিকি ও সাপ পড়ার যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে সেই অভিযোগ চিরতরে বন্ধ করতে তৎপর প্রশাসন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নার গুণগতমান কেমন রয়েছে তা জানতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না করা খিচুড়ি খেয়ে দেখলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাঝেমধ্যেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা আইসিডিএস (ICDS)-এর দেওয়া খাবার নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করার অভিযোগ, আবার কোথাও খিচুড়ির মধ্যে ব্যাঙ, টিকটিকি বা সাপ পাওয়ার মত মারাত্মক ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই ধরণের গাফিলতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে এই সমস্ত অভিযোগ চিরতরে বন্ধ করতে এবং রান্নার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও তৎপর ভূমিকা নিলেন স্বয়ং জেলাশাসক।
আরও পড়ুন Bengali Serial: রাহুলের মৃত্যু থেকে শিক্ষা, ‘সোহাগে আদরে’ ধারাবাহিকে নর্থ বেঙ্গলের শ্যুটিং-এ ঘটে গেল নজিরবিহীন ঘটনা
২ জুন তমলুকের বিষ্ণুবাড় হরিসাধন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার পরিদর্শনে যান। সেখানে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য তৈরি হওয়া মেনু অর্থাৎ রান্না করা গরম খিচুড়ি নিজে খেয়ে দেখেন তিনি। খাবারের স্বাদ কেমন, চাল-ডাল ঠিকমত সেদ্ধ হয়েছে কিনা এবং পুষ্টিগুণ বজায় আছে কিনা এবং খিচুড়িতে কোনও তেল মশলা আছে কিনা—তা সরজমিনে খতিয়ে দেখাই ছিল তাঁর এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য। কেবল খাবারের স্বাদ গ্রহণ করাই নয়, জেলাশাসক ওই কেন্দ্রের রান্নার পরিবেশও খতিয়ে দেখেন। যেখানে রান্না হচ্ছে সেই রান্নাঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কিনা, রান্নার কাজে ব্যবহৃত জল বিশুদ্ধ কিনা এবং ধুয়ে-মুছে সমস্ত বাসনপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা তিনি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করেন।
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পায়। অঙ্গনওয়াড়ির খাবারের গুণমান নিয়ে কোনওরকম খামতি বা গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আজ আমি নিজে রান্না করা খাবার খেয়ে দেখলাম। তবে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, কোনও পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে এবং কতটা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে, তার ওপর আমরা কড়া নজর রাখছি।” একই সঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস বরদাস্ত করা হবে না। রান্নার পরিচ্ছন্নতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালান হবে। জেলাশাসকের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকেরা।