• আদালতের ব্যস্ততার ফাঁকেই গিটারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, নজির গড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তরুণ
    News18 বাংলা | ০২ জুন ২০২৬
  • মুখে গাল ভর্তি দাড়ি, কাঁধ ছাপানো লম্বা চুল। প্রথম দেখায় যে কারও মনে হতে পারে তিনি আদ্যোপান্ত একজন শিল্পী। কথাটি ভুল নয়, তবে তাঁর আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। নাম দেবার্ঘ্য ঘোষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনের নতুন বাজার এলাকার এই তরুণ পেশা আর নেশাকে এক সুতোয় বেঁধেছেন অনায়াসে।

    ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে আদ্যোপান্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ। বাবা শান্তিদেব ঘোষ পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ও তবলায় অত্যন্ত দক্ষ। মা এবং দিদি দু’জনেই নাচে পারদর্শী। এমন সাঙ্গীতিক আবহে বেড়ে ওঠা দেবার্ঘ্যর মনে শৈশব থেকেই সঙ্গীতের বীজ পোঁতা হয়ে গিয়েছিল। ছোটবেলায় মেলায় গিয়ে অন্য কোনও খেলনার বদলে তিনি বায়না করতেন খেলনা গিটারের। সেই খেলনা গিটার থেকেই ধীরে ধীরে সুরের প্রতি তাঁর ভালবাসা গাঢ় হয়। বাবার সংস্কৃতি চর্চা দেখে অনুপ্রাণিত ছেলে ২০০৪-০৫ সাল নাগাদ, যখন তিনি প্রথম শ্রেণীর ছাত্র, তখন থেকেই গিটারের প্রথাগত তালিম নেওয়া শুরু করেন।

    পেশাগত জীবনে দেবার্ঘ্য, মেদিনীপুর আদালত থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্টেও ওকালতি করেন। কিন্তু সারাদিনের হাড়ভাঙা আইনি কাজের খাটুনির পরেও ঘরে ফিরে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট গিটার নিয়ে বসেন তিনি। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর এই গভীর টান তাঁকে এনে দিয়েছে বহু স্বীকৃতি। সর্বভারতীয় সঙ্গীত পরিষদ থেকে তিনি ‘বি-মিউজ’ এবং সুরভারতী সঙ্গীত কলা কেন্দ্র থেকে ‘এম-মিউজ’ ও ‘বি.এড ইন মিউজিক’ করেছেন। এছাড়াও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেলদা কলেজ থেকে গিটারের উপর একটি বিশেষ কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এই প্রতিভা জেলা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সমাদৃত। ইন্টারন্যাশনাল গিটার ফেস্টিভ্যালে তিনি দু’বার পুরস্কৃত হয়েছেন এবং ২০১৯ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

    বর্তমান যুবসমাজ ও শিশুরা যেভাবে ক্রমাগত মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এই তরুণ আইনজীবী। তিনি মনে করেন, স্মার্টফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে তরুণ প্রজন্মের উচিত শিল্প ও সংস্কৃতির দিকে নজর দেওয়া। গান, বাজনা বা আঁকার মত সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত থাকলে তবেই বাঙালির হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে আগামী দিনে ভাল ভাবে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
  • Link to this news (News18 বাংলা)